রাজ্যপালের ভাষণে শুরু বিধানসভার বাজেট অধিবেশন, সোমবার বাজেট পেশ করবেন স্বপন দাশগুপ্ত

কলকাতা : রাজ্যপাল আর. এন. রবি-র ভাষণের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের সূচনা হল। তিনি জানান, বাজেট অধিবেশনের প্রথম পর্ব চলবে আগামী ২৫ জুন পর্যন্ত। রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত আগামী সোমবার রাজ্য বাজেট পেশ করবেন। এ বার বাজেট অধিবেশনের কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচারও করা হবে।

উদ্বোধনী ভাষণে রাজ্যপাল আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি, তোলাবাজি, নারী নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং শিল্পোন্নয়ন-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নতুন রাজ্য সরকার নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং দুর্নীতি ও তোলাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

নারী নির্যাতনের ঘটনায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের কথা উল্লেখ করে রাজ্যপাল জানান, সমাজবিরোধী ও তোলাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর দাবি, গত কয়েক বছরে রাজ্যে ভয় ও সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, যা দূর করতে নতুন সরকার উদ্যোগী হয়েছে। আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সীমান্ত নিরাপত্তা ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গেও সরব হন রাজ্যপাল। তিনি বলেন, খোলা সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে জমি দিয়েছে রাজ্য সরকার। তাঁর বক্তব্য, অনুপ্রবেশ দীর্ঘদিনের সমস্যা এবং এর ফলে জনবিন্যাসেও পরিবর্তন ঘটেছে। অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

রাজ্যপাল আরও বলেন, বালি পাচার ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ভয় দেখানো বা ‘থ্রেট কালচার’-এর রাজনীতি কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।

উন্নয়নমূলক প্রকল্পের প্রসঙ্গ তুলে রাজ্যপাল দাবি করেন, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে আটকে ছিল। তাঁর কথায়, চিংড়িঘাটা মেট্রো প্রকল্প প্রায় ১৮ মাস স্থগিত ছিল। নতুন সরকার সেই প্রকল্পে গতি এনেছে। পাশাপাশি ৩৬টি রেল প্রকল্পের জন্য জমি দেওয়া হয়েছে এবং রেল ও মেট্রোর সমস্ত আটকে থাকা প্রকল্প দ্রুত সম্পূর্ণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শিল্পোন্নয়ন নিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকার পর রাজ্যে শিল্প আবার গুরুত্ব পাচ্ছে। নতুন বিনিয়োগ ও শিল্প স্থাপনে সরকার সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও একাধিক পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন রাজ্যপাল। তিনি জানান, রাজ্যে জাতীয় শিক্ষানীতি কার্যকর করা হবে এবং বিদ্যালয়গুলিতে উন্নত মানের মধ্যাহ্নভোজন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। নারী ক্ষমতায়নেও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এ ছাড়া জরায়ুমুখ ক্যানসার নির্মূলে বিনামূল্যে টিকাকরণ কর্মসূচি চালুর সিদ্ধান্তের কথাও জানান তিনি। একই সঙ্গে জনঔষধি যোজনার আওতায় ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ে ওষুধ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।

রাজ্যপালের ভাষণে সরকারের আগামী দিনের অগ্রাধিকার ও নীতিগত দিকনির্দেশনা স্পষ্ট হয়েছে। এখন নজর আগামী সোমবারের বাজেট পেশের দিকে, যেখানে রাজ্যের অর্থনৈতিক রূপরেখা এবং উন্নয়ন কর্মসূচির বিস্তারিত ঘোষণা করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 × 2 =