পর্তুগাল ১ (নেভেস)
কঙ্গো ১ (উইসা)
নিজস্ব প্রতিবেদন: ২০২৬ সাল যেন অঘটনের বিশ্বকাপ। কেপ ভার্দের কাছে আটকে গিয়েছিল স্পেন। এবার বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে কঙ্গোর কাছে আটকে গেল ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর পর্তুগাল। বুধবার ডিআর কঙ্গোর কাছে ১-১ গোলে ড্র করল পর্তুগিজরা। তবে গোটা ম্যাচে খুঁজে পাওয়া গেল না রোনাল্ডোকে। আক্রমণভাগে একেবারে সামনে খেলা রোনাল্ডোর পায়ে বলই গেল না বেশি।
একদিকে বিশ্বমঞ্চে যখন লিওনেল মেসি, আর্লিং হালান্ড, কিলিয়ান এমবাপেরা নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করছেন, অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে হতাশ করলেন রোনাল্ডো। সিআরসেভেনকে নিয়ে সমর্থকদের প্রত্যাশাও ছিল বড়। রোনাল্ডোর এই খেলায় তার প্রথম একাদশে না থাকারই কথা, বলে মনে করছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা।
কাতার বিশ্বকাপে রোনাল্ডোকে প্রথম একাদশে না রাখা নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়তে হয়েছিল তৎকালীন কোচ ফের্নান্দো সান্তোসকে। এদিকে পর্তুগালের কোচ হওয়ার পর রবার্তো মার্তিনেজ ঘোষণা করেছিলেন, তিনি রোনাল্ডোকে নিয়েই দল সাজাবেন। ৪১ বছর বয়সী রোনাল্ডোই এদিন অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নেমেছিলেন। রোনাল্ডোর পায়ে এদিন বলই জমা পড়ল না। দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য দু’টি বল সুযোগ পেয়েছিলেন রোনাল্ডো। ফ্রান্সিসকো কনসেসাও দুটি বল বাড়িয়েছিলেন, একটি থেকে গোল হতেই পারত। রোনাল্ডো দুইবারই ভারসাম্য বজায় রেখে শট নিতে ব্যর্থ। এদিকে ম্যাচের একদম শেষে নামানো হল আগের বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করা গন্সালো রামোসকে। কনসিসাও এলেন বিরতিতে। জোয়াও ফেলিক্সকে ব্যবহার করলেন না পর্তুগাল কোচ। এর ফলে পর্তুগাল কোচের দল নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ম্যাচের মাত্র ৬ মিনিটে পেদ্রো নেতোর নিখুঁত ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে গোল করে পর্তুগালকে এগিয়ে দেন জোয়াও নেভেস। কিন্তু প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে গোলরক্ষক দিয়েগো কোস্তাকে পরাস্ত করে কঙ্গোকে সমতায় ফেরান ইয়োয়ান উইসা। এটিই বিশ্বকাপের মঞ্চে ডিআর কঙ্গোর প্রথম গোল। দেশে ইবোলা মহামারীর কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ১৯৭৪ সালের পর বিশ্বকাপে খেলতে আসা কঙ্গোর এই অদম্য পারফরম্যান্স এবং প্রথম পয়েন্ট অর্জন নিঃসন্দেহে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। অ্যাসিড হামলা থেকে বিশ্বকাপের মঞ্চে গোল ইয়োয়ান উইসার লড়াইও মনে রাখবে এবারের বিশ্বকাপ।

