বিশ্বকাপে অঘটনের হাওয়া, বেলজিয়ামকে আটকে দিল মিশর !

চলতি ফুটবল বিশ্বকাপের বয়স মাত্র চার দিন। অথচ এর মধ্যেই একের পর এক অঘটন বিশ্ব ফুটবলকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। শক্তিশালী দলগুলোর বিরুদ্ধে তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত দেশগুলোর দুর্দান্ত লড়াই প্রমাণ করে দিয়েছে, আধুনিক ফুটবলে আর কোনও দলকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।
এই বিশ্বকাপে ইতিমধ্যেই জাপান নেদারল্যান্ডসকে রুখে দিয়েছে, মরক্কো ব্রাজিলের বিরুদ্ধে মূল্যবান এক পয়েন্ট ছিনিয়ে নিয়েছে, আর কেপ ভার্দে ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে গোলশূন্য ড্র করতে বাধ্য করেছে। সেই তালিকায় প্রায় যুক্ত হতে বসেছিল মিশরও। বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় এগিয়ে থেকে তারা বড় চমকের স্বপ্ন দেখাচ্ছিল।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও মিশরের আত্মবিশ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। ২০ মিনিটে সেই আত্মবিশ্বাসেরই প্রতিফলন দেখা যায়। ডান প্রান্ত থেকে মহম্মদ সালাহর নিখুঁত পাস পেয়ে দুর্দান্ত গোল করেন ইমাম আশৌর। বিশ্বকাপের অভিষেক ম্যাচেই গোল করে তিনি নিজের প্রতিভার পরিচয় দেন। ছোটবেলায় ফুটবল ক্যারিয়ার নিয়ে নানা বাধার মুখে পড়লেও তিনি হার মানেননি। কঠোর পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসের জোরে আজ তিনি মিশরের অন্যতম ভরসার নাম।
গোল হজমের পর বেলজিয়াম আক্রমণের গতি বাড়ায়। যদিও তাদের দলে এখনও কেভিন ডি ব্রুইনের মতো অভিজ্ঞ ফুটবলার রয়েছেন, তবে আগের সেই অপ্রতিরোধ্য ধার আর দেখা যায় না। বয়সের ছাপ অনেকটাই স্পষ্ট। তবুও বড় দলের অভিজ্ঞতা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা তারা আবারও প্রমাণ করে।
ম্যাচের ৬৫ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন রোমেলু লুকাকু। দীর্ঘ সময় ক্লাব ফুটবলের বাইরে থাকার পরেও তাঁর উপস্থিতি ম্যাচের চিত্র বদলে দেয়। বিশাল শারীরিক গঠন ও শক্তির সাহায্যে তিনি মিশরের রক্ষণভাগের উপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করেন। এক আক্রমণের সময় লুকাকুকে আটকাতে গিয়ে মিশরের ডিফেন্ডার মহম্মদ হানি ভুলবশত আত্মঘাতী গোল করে বসেন। স্কোরলাইন বলছে এটি আত্মঘাতী গোল, কিন্তু বাস্তবে গোলটির পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল লুকাকুর চাপ সৃষ্টি করার ক্ষমতার।
শেষ পর্যন্ত ম্যাচ ১-১ ড্র হলেও মিশরের পারফরম্যান্স বিশ্ব ফুটবলকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। আফ্রিকা ও এশিয়ার দেশগুলো এখন আর শুধু অংশগ্রহণ করতে বিশ্বকাপে আসে না; তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আসে। তাদের খেলোয়াড়রা ইউরোপের বড় বড় লিগে নিয়মিত খেলছেন, আধুনিক প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন। ফলে ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার সঙ্গে দক্ষতার ব্যবধান ধীরে ধীরে কমে আসছে।
বিশ্বকাপের শুরুতেই যে সব ফলাফল দেখা গেছে, তা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ভবিষ্যতের ফুটবল আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে চলেছে। বড় দলের নাম আর অতীতের সাফল্য ম্যাচ জেতার নিশ্চয়তা নয়। মাঠের পারফরম্যান্সই শেষ কথা বলবে। আর সেই কারণেই এই বিশ্বকাপ ক্রমশ আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fourteen − nine =