ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচেই দুর্দান্ত জয় দিয়ে অভিযান শুরু করল ভারত ‘এ’ দল। ডাম্বুলায় অনুষ্ঠিত হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কা ‘এ’-কে ৮ রানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে শুভসূচনা করলেন তিলক বর্মার নেতৃত্বাধীন ভারতীয় ক্রিকেটাররা। ব্যাট হাতে রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের অনবদ্য শতরান এবং পরে বোলারদের সম্মিলিত পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত ‘এ’। শুরুতেই বৈভব সূর্যবংশী ও প্রভসিমরন সিংয়ের উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দল। তবে সেই পরিস্থিতি সামাল দেন সহ-অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়াড় ও অধিনায়ক তিলক বর্মা। দুজনে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে ইনিংসকে মজবুত ভিতের উপর দাঁড় করান। ঋতুরাজ ১১৪ বলে ১০১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। অন্যদিকে তিলক বর্মা ৯৭ বলে ৬০ রান করে দলের স্কোরকে এগিয়ে নিয়ে যান। শেষদিকে আয়ুশ বদৌনি ও সূর্যাংশ শোডগের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৭৭ রান তোলে ভারত ‘এ’।
২৭৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা দুর্দান্ত করে শ্রীলঙ্কা ‘এ’। ওপেনার আবিষ্কা ফার্নান্ডো ৪৫ এবং নিরোশান ডিকওয়েলা ৪৭ রান করে দলকে শক্ত ভিত এনে দেন। পরে সদেরা সমরবিক্রমা ও অধিনায়ক সহন আরাচ্চিগের জুটিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই শ্রীলঙ্কার হাতে চলে যায়। একসময় মনে হচ্ছিল জয় নিশ্চিত তাদেরই।
কিন্তু সেখান থেকেই ম্যাচে দারুণ প্রত্যাবর্তন করে ভারত ‘এ’। স্পিনার অনুকূল রায় গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পরপর উইকেট তুলে নিয়ে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিংয়ে ধস নামান। সদেরা সমরবিক্রমা ও রবিন্দু ফার্নান্ডোকে ফিরিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তিনি। বিপ্রাজ নিগম, আয়ুশ বদৌনি, অংশুল কম্বোজ, আরশাদ খানসহ অন্যান্য বোলাররাও চাপ ধরে রাখেন।
অধিনায়ক সহন আরাচ্চিগে ৬৮ রানের লড়াকু ইনিংস খেললেও শেষরক্ষা করতে পারেননি। শেষ ওভার পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেলেও নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছতে ব্যর্থ হয় শ্রীলঙ্কা ‘এ’। শেষ পর্যন্ত ৮ রানের রুদ্ধশ্বাস জয় তুলে নেয় ভারত ‘এ’।
ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচেই এই জয় ভারত ‘এ’ দলের আত্মবিশ্বাস অনেকটা বাড়িয়ে দিল। রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের শতরান, তিলক বর্মার দায়িত্বশীল ইনিংস এবং অনুকূল রায়ের গুরুত্বপূর্ণ স্পেল মিলিয়ে দলগত শক্তিরই প্রমাণ দিল তরুণ ভারতীয় ব্রিগেড। আগামী ম্যাচগুলোতেও এই ছন্দ ধরে রাখতে চাইবে ভারত ‘এ’।

