বেঙ্গল টি-টোয়েন্টি লিগ সিজন ৩-এ সোমবার ইডেন গার্ডেন্সে অনুষ্ঠিত ম্যাচে সোবিসকো স্ম্যাশার্স মালদাকে ৫ উইকেটে পরাজিত করল শ্রাচি রাঢ় টাইগার্স। ব্যাট ও বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হন শাহবাজ আহমেদ। তাঁর অলরাউন্ড নৈপুণ্যেই গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নিল রাঢ় টাইগার্স। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় সোবিসকো স্ম্যাশার্স মালদা। তবে শুরু থেকেই রাঢ় টাইগার্সের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে চাপে পড়ে যায় মালদার ব্যাটিং লাইন-আপ। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে তারা। ইনিংসের মাঝামাঝি সময়ে কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করেন বিকাশ সিং সিনিয়র। তিনি ২২ বলে ৩৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন এবং দলের সর্বোচ্চ স্কোরার হন। কিন্তু অন্য প্রান্তে কোনও ব্যাটার বড় ইনিংস খেলতে না পারায় মালদা বড় স্কোর গড়তে ব্যর্থ হয়।
রাঢ় টাইগার্সের বোলিং আক্রমণের নেতৃত্ব দেন শাহবাজ আহমেদ। নিজের চার ওভারের স্পেলে মাত্র ১৫ রান খরচ করে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন তিনি। তাঁর নিখুঁত লাইন ও লেংথের সামনে মালদার ব্যাটাররা কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েন। এছাড়া রোহিত কুমার ও দীপাঞ্জন মুখোপাধ্যায় দুটি করে উইকেট নিয়ে দলকে শক্ত ভিত এনে দেন। শেষ পর্যন্ত ১৯.৪ ওভারে ১১৭ রানে অলআউট হয়ে যায় মালদা। ১১৮ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে রাঢ় টাইগার্স শুরু থেকেই ইতিবাচক ক্রিকেট খেলে। যদিও তারা কয়েকটি উইকেট হারায়, তবুও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রাখে। ওপরে উঠে এসে দ্রুত রান তোলার দায়িত্ব নেন শাহবাজ আহমেদ। তিনি মাত্র ১৮ বলে ৩১ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। তাঁর ইনিংসে ছিল একাধিক বাউন্ডারি ও আক্রমণাত্মক শট, যা রান তাড়ার গতি বাড়িয়ে দেয়। অন্যদিকে সৌরভ কুমার সিং ধৈর্যশীল ব্যাটিং করে ৩০ বলে ২৯ রান করেন। তিনি এক প্রান্ত আগলে রেখে দলের জয় নিশ্চিত করার কাজ করেন। মাঝের ওভারে কিছুটা চাপ তৈরি হলেও রাঢ় টাইগার্সের ব্যাটাররা পরিস্থিতি সামলে নেন। শেষ পর্যন্ত ১৬ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১১৮ রান তুলে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় রাঢ় টাইগার্স।
ম্যাচের সেরা শাহবাজ আহমেদের কথায় “দলের জয়ে অবদান রাখতে পেরে আমি খুবই খুশি। আসলে আমার কাছে সবসময় দলের প্রয়োজনটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আজ বোলিং করার সময় পরিকল্পনা ছিল যতটা সম্ভব সঠিক জায়গায় বল রাখা এবং ব্যাটারদের ভুল করতে বাধ্য করা। উইকেট থেকে কিছুটা সাহায্য পাওয়া যাচ্ছিল, তাই সেই সুবিধাটা কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি। সৌভাগ্যবশত বল হাতে চারটি উইকেট পেয়েছি এবং সেটাই ম্যাচে বড় পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। ব্যাটিংয়ের সময় লক্ষ্য খুব বড় ছিল না, কিন্তু টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ছোট লক্ষ্যও কখনও কখনও কঠিন হয়ে যেতে পারে। তাই শুরু থেকেই ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে খেলতে চেয়েছিলাম। কয়েকটা বাউন্ডারি পেয়ে আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায় এবং দলের রান তাড়ার কাজ সহজ হয়। আমাদের বোলিং ইউনিট আজ অসাধারণ পারফর্ম করেছে। রোহিত, দীপাঞ্জনসহ প্রত্যেকে নিজেদের ভূমিকা খুব ভালোভাবে পালন করেছে। ব্যাটাররাও চাপের মুহূর্তে দারুণ দায়িত্বশীল ক্রিকেট খেলেছে। এই জয় পুরো দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। ব্যক্তিগত পুরস্কার অবশ্যই ভালো লাগে, কিন্তু আমার কাছে সবচেয়ে বড় বিষয় হল দলের জয়। আশা করছি আগামী ম্যাচগুলোতেও আমরা একই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারব এবং সমর্থকদের আরও ভালো ক্রিকেট উপহার দিতে পারব।” এই জয়ের ফলে টুর্নামেন্টে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করল রাঢ় টাইগার্স। অন্যদিকে মালদাকে নিজেদের ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণ খুঁজে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতে হবে। তবে দিনের শেষে সমস্ত আলো কেড়ে নিলেন শাহবাজ আহমেদ। বল হাতে ৪ উইকেট এবং ব্যাট হাতে দ্রুত ৩১ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচের সেরা হওয়ার দাবিদার তিনি নিঃসন্দেহে।

