নিউ টাউন, কলকাতা : রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের তত্ত্বাবধানে এবং আচার্য মহাপ্রজ্ঞ মহাশ্রমণ এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন, নিউ টাউনের সহযোগিতায় স্বাতন্ত্র্যবীর বিনায়ক দামোদর সাভারকর জির জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে একটি জমকালো এবং অনুপ্রেরণাদায়ক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে প্রায় ৪৫০ জন দেশপ্রেমিক নাগরিক এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের গৌরবময় উপস্থিতি ছিল।
দেশাত্মবোধে উদ্বুদ্ধ “বন্দে মাতরম্” গানটির মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। রাকেশ সরিয়া অত্যন্ত চমৎকারভাবে এই সমবেত গানটি পরিবেশন করেন, যার ফলে সমগ্র প্রেক্ষাগৃহ দেশভক্তির ভাবাবেগে মুখরিত হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানটির আন্তরিক ও সুচারু সঞ্চালনা করেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের বিনয় গুপ্ত। তিনি অনুষ্ঠানের বিভিন্ন দিক অত্যন্ত সুসংগত, আকর্ষণীয় এবং অনুপ্রেরণাদায়ী উপায়ে উপস্থাপন করেন।
এই উপলক্ষে আন্দামানের সেলুলার জেলে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সহ্য করা অমানবিক নির্যাতন এবং তাঁদের অনন্য বলিদানের ওপর ভিত্তি করে প্রায় ১৫ মিনিটের একটি বিশেষ তথ্যচিত্র (ডকুমেন্টারি ফিল্ম) প্রদর্শন করা হয়। উপস্থিত জনতা তথ্যচিত্রটির মাধ্যমে স্বাধীনতা সংগ্রামের সেই না-বলা অধ্যায়গুলি দেখে অত্যন্ত আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কলকাতা পূর্ব ভাগের কার্যবাহ ইন্দ্র নাহাটা, স্বাতন্ত্র্যবীর সাভারকরের ব্যক্তিত্ব ও কৃতিত্বের ওপর আলোকপাত করে বলেন যে, সাভারকর কেবল একজন বিপ্লবীই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন রাষ্ট্রচিন্তা, আত্মগৌরব, সংগঠন এবং সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের এক প্রখর প্রবক্তা। তিনি অত্যন্ত আবেগঘন এবং বলিষ্ঠ ভাষায় যুবসমাজকে রাষ্ট্র গঠনের উদ্দেশ্যে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা ও প্রখর চিন্তাবিদ ড. তারা দুগড় তাঁর ওজস্বী বক্তৃতায় স্বাতন্ত্র্যবীর সাভারকরের সমগ্র জীবন-প্রবাসের বিস্তারিত বর্ণনা করেন। তিনি সাভারকর জির ত্যাগ, তপস্যা, শৌর্য, রাষ্ট্রনিষ্ঠা, সামাজিক সমরসতা এবং দূরদর্শী চিন্তাভাবনাকে বর্তমান সময়ে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক বলে উল্লেখ করে বলেন যে, তাঁর জীবন আজও যুবসমাজের জন্য অনুপ্রেরণার এক অক্ষয় উৎস।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন কমল কুমার দুগড় তাঁর সভাপতিসুলভ ভাষণে স্বাতন্ত্র্যবীর সাভারকরকে দেশভক্তি, আত্মসম্মান, অদম্য সাহস এবং অখণ্ড জাতীয়তাবাদের প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, সাভারকরের চিন্তাভাবনা আজও ভারতকে ‘বিশ্বগুরু’ হিসেবে গড়ে তোলার দিশায় পথপ্রদর্শন করে। তিনি উপস্থিত জনসমক্ষে সাভারকর জির আদর্শকে জীবনে ধারণ করার এবং রাষ্ট্রহিতকে সর্বোপোরি রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সমস্ত বক্তা একস্বরে স্বীকার করেন যে, স্বাতন্ত্র্যবীর সাভারকরের জীবন হলো ত্যাগ, তপস্যা, সংগ্রাম, বলিদান এবং রাষ্ট্রসমর্পণের এক অনুপম উপাখ্যান, যা থেকে প্রত্যেক ভারতীয়র অনুপ্রেরণা নেওয়া উচিত।
রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের প্রার্থনা “নমস্তে সদা বৎসলে মাতৃভূমে”-র সমবেত গানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। সমগ্র পরিবেশ দেশভক্তি, শৃঙ্খলা এবং সমর্পণের ভাবনায় অনুপ্রাণিত হয়ে ওঠে।
এই উপলক্ষে উপস্থিত সকল নাগরিক স্বাতন্ত্র্যবীর সাভারকরের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রাষ্ট্রসেবা এবং সমাজ উন্নয়নে সক্রিয় অবদান রাখার সংকল্প গ্রহণ করেন।

