আইপিএলে ব্যাটিংয়ের ধরন গত কয়েক বছরে এমনভাবে বদলে গিয়েছে যে এখন ২০০ রান আর কোনও অসাধারণ স্কোর নয়। বরং কোনও দল যদি ২০০ রানের গণ্ডি স্পর্শ করতে না পারে, তাহলে সেই ইনিংসকেই তুলনামূলকভাবে কম রানের বলে ধরা হচ্ছে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের এই নতুন বাস্তবতায় ব্যাটাররা যেমন আরও আগ্রাসী হয়ে উঠেছেন, তেমনই বোলারদের কাজও অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে এই পরিস্থিতিতে নিয়ম বদলে ব্যাটারদের নিয়ন্ত্রণে আনার পক্ষে নন আইপিএল চেয়ারম্যান অরুণ ধুমাল।
ধুমালের মতে, ক্রিকেটের এই পরিবর্তিত যুগে শুধু ব্যাটিং নয়, বোলিংয়েও নতুন ধরনের চিন্তাভাবনা এবং কৌশলগত উন্নয়ন প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, ব্যাটাররা যেভাবে নিজেদের খেলার ধরন বদলেছেন, বোলারদেরও সেই পথেই এগোতে হবে। শুধুমাত্র গতি বা সুইংয়ের উপর নির্ভর না করে পরিকল্পিত বোলিং, বৈচিত্র্য এবং প্রযুক্তির সাহায্যে নিজেদের আরও কার্যকর করে তুলতে হবে।
চলতি মরশুমে ব্যাটারদের আধিপত্য ছিল চোখে পড়ার মতো। সবচেয়ে বড় উদাহরণ তরুণ বৈভব সূর্যবংশী। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই তিনি পুরো টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি রান সংগ্রহ করেছেন। ১৬ ম্যাচে তাঁর রান ৭৭৬। শুধু রানই নয়, বিস্ফোরক স্ট্রাইক রেট এবং ধারাবাহিক বড় ইনিংস তাঁকে আলাদা করে দিয়েছে। পাশাপাশি এক মরশুমে সর্বাধিক ছক্কার নতুন রেকর্ডও গড়েছেন তিনি। এর ফলে স্পষ্ট হয়েছে যে বর্তমান আইপিএলে তরুণ ব্যাটাররাও নির্ভীক ক্রিকেট খেলতে শিখে গিয়েছেন।
দলগত পারফরম্যান্সেও একই ছবি দেখা গিয়েছে। এই মরশুমে ২০০-র বেশি রানের লক্ষ্য একাধিকবার সফলভাবে তাড়া করা হয়েছে। ফলে আগে যে স্কোরগুলো ম্যাচ জয়ের জন্য নিরাপদ বলে মনে করা হত, এখন সেগুলোও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। প্লে-অফে গুজরাট টাইটান্সের ২১৫ রান তাড়া করে জয়ের ঘটনাটি দেখিয়ে দিয়েছে, আধুনিক টি-টোয়েন্টিতে কোনও লক্ষ্যই আর অজেয় নয়।
এই পরিস্থিতিতে অনেকেই মনে করছেন, ব্যাট ও বলের মধ্যে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে কিছু পরিবর্তন প্রয়োজন। কিন্তু ধুমাল মনে করেন, সমস্যার সমাধান নিয়ম বদলে নয়, বরং বোলারদের উন্নত প্রস্তুতির মাধ্যমে সম্ভব। তাঁর মতে, যারা ধারাবাহিকভাবে ইয়র্কার, বাউন্সার এবং বিভিন্ন ধরনের স্লোয়ার বল সঠিক পরিকল্পনা মেনে ব্যবহার করতে পারবেন, তারাই ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিতে সক্ষম হবেন।
তিনি তরুণ পেসারদের উদাহরণও তুলে ধরেছেন, যারা দেখিয়েছেন সঠিক কৌশল থাকলে রান আটকানো এখনও সম্ভব। ধুমালের বিশ্বাস, ভবিষ্যতের বোলারদের ব্যাটারভেদে আলাদা পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে এবং ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে শিখতে হবে।
এছাড়া আধুনিক প্রযুক্তিকেও তিনি বোলারদের অন্যতম বড় অস্ত্র হিসেবে দেখছেন। বর্তমানে ভিডিও বিশ্লেষণ, ডেটা এবং পরিসংখ্যানের সাহায্যে প্রতিপক্ষের শক্তি ও দুর্বলতা খুঁজে বের করা অনেক সহজ। সেই তথ্যকে কাজে লাগাতে পারলে বোলাররা আরও কার্যকর হতে পারবেন।
সব মিলিয়ে ধুমালের বক্তব্য, আইপিএলে ব্যাটারদের দাপট এখন স্পষ্ট হলেও ভবিষ্যতে কৌশল, পরিকল্পনা এবং প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে বোলাররাও আবার নিজেদের প্রভাব প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন।

