মাত্র ১৫ বছর বয়সেই আইপিএলে ঝড় তুলেছে বৈভব সূর্যবংশী। ম্যাচ যত বড় হচ্ছে, চাপ যত বাড়ছে, ততই যেন আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে রাজস্থান রয়্যালসের এই তরুণ ব্যাটার। মঙ্গলবার প্লে-অফের লড়াইয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাঁর ব্যাট থেকেই এল এক অবিশ্বাস্য ইনিংস। বৈভবের বিস্ফোরক ৯৩ রানের সৌজন্যে লখনউ সুপার জায়ান্টসকে ৭ উইকেটে হারিয়ে প্লে-অফের দৌড়ে বড়সড় সুবিধা করে নিল রাজস্থান রয়্যালস। একই সঙ্গে কঠিন হয়ে গেল কলকাতা নাইট রাইডার্সের সম্ভাবনাও।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে লখনউ সুপার জায়ান্টস শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল। ওপেনার জশ ইংলিশ এবং মিচেল মার্শ দুরন্ত ছন্দে ব্যাট করেন। পাওয়ার প্লে-তেই কোনও উইকেট না হারিয়ে ৮৩ রান তুলে ফেলে তারা। মাত্র আট ওভারে ওপেনিং জুটিতে আসে ১০৫ রান। ইংলিশ ২৯ বলে ৬০ রান করে দলের ভিত শক্ত করেন। অন্যদিকে মার্শ একেবারে বিধ্বংসী মেজাজে ছিলেন। মাত্র ৫৭ বলে ৯৬ রানের ইনিংসে তিনি মারেন ১১টি চার এবং ৫টি ছক্কা। যদিও শেষদিকে নিকোলাস পুরান ও ঋষভ পন্থ দ্রুত রান তুলতে না পারায় লখনউয়ের রান ২৪০-এর বদলে থামে ২২০-৫-এ।
তবে এত বড় লক্ষ্যও রাজস্থানের ব্যাটারদের আত্মবিশ্বাসে ভাঙন ধরাতে পারেনি। যশস্বী জয়সওয়াল এবং বৈভব শুরু থেকেই পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন। মাত্র সাড়ে ছয় ওভারে প্রথম উইকেটে ৭৫ রান তুলে ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় রাজস্থান। অধিনায়কত্বের দায়িত্বে থাকা জয়সওয়াল ২৩ বলে ৪৩ রান করে আউট হলেও আসল বিস্ফোরণ ঘটান বৈভব।
শুরুর দিকে কিছুটা ধীরগতিতে খেললেও পাওয়ার প্লে-র পর একেবারে অন্য রূপে দেখা যায় তাঁকে। লখনউয়ের বোলারদের ওপর একের পর এক আক্রমণ শানিয়ে মাত্র ৩৮ বলে ৯৩ রান করেন বৈভব। তাঁর ইনিংসে ছিল চোখধাঁধানো চার ও ছক্কার বৃষ্টি। অল্পের জন্য শতরান হাতছাড়া হলেও ম্যাচ তখন কার্যত রাজস্থানের মুঠোয় চলে গিয়েছে। শেষে ধ্রুব জুরেলের অপরাজিত ৫৩ রানে সহজেই জয় নিশ্চিত করে রাজস্থান।
এই ইনিংসের মাধ্যমে নতুন এক রেকর্ডও গড়েছে বৈভব। আইপিএলের ইতিহাসে এক মরশুমে ৫০০-র বেশি রান করা ব্যাটারদের মধ্যে তাঁর স্ট্রাইক রেটই এখন সর্বোচ্চ। চলতি মরশুমে তাঁর স্ট্রাইক রেট ২৩৬-এরও বেশি। এর আগে এই রেকর্ড ছিল আন্দ্রে রাসেলের দখলে। ২০১৯ সালে রাসেল ২০৪ স্ট্রাইক রেটে ৫০০-র বেশি রান করেছিলেন।
এই জয়ের ফলে ১৩ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে রাজস্থান রয়্যালস। এখন সমীকরণ খুবই সহজ। শেষ ম্যাচে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে হারাতে পারলেই সরাসরি প্লে-অফে পৌঁছে যাবে তারা। অন্য কোনও দলের ফলের দিকে তাকাতে হবে না। অন্যদিকে রাজস্থানের এই জয় বড় ধাক্কা দিল কলকাতা নাইট রাইডার্সকে। কারণ শেষ ম্যাচে রাজস্থান যদি না হারে, তাহলে কেকেআরের প্লে-অফের স্বপ্ন শেষ হয়ে যাবে। লখনউ সুপার জায়ান্টস অবশ্য এ বার প্রথম দল হিসেবে প্লে-অফের দৌড় থেকে ছিটকে গিয়েছে।

