ফুটবল বিশ্বকাপ ভারতের কাছে বরাবরই আবেগের নাম। কোটি কোটি সমর্থক রাত জেগে প্রিয় দল ও ফুটবলারদের খেলা দেখেন, কিন্তু এখনও পর্যন্ত ভারতীয় দল কখনও বিশ্বকাপের মূলপর্বে জায়গা করে নিতে পারেনি। তাই বিশ্বমঞ্চে ভারতের প্রতিনিধিত্ব দেখা দেশের ফুটবলপ্রেমীদের কাছে স্বপ্নের মতো। সেই কারণেই এবার এক বিশেষ খবর উচ্ছ্বসিত করে তুলেছে ভারতীয় সমর্থকদের। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে হয়তো দেখা যেতে পারে ভারতীয় বংশোদ্ভূত তিন ফুটবলারকে।
নিউজিল্যান্ডের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ইতিমধ্যেই সুযোগ পেয়েছেন সরপ্রীত সিং। অকল্যান্ডে জন্ম হলেও তাঁর পরিবারের শিকড় ভারতে। ২৭ বছরের এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার বহুদিন ধরেই নিউজিল্যান্ড দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। ২০১৮ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেকের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফরম্যান্স করে তিনি জায়গা পাকা করেছেন ‘অল হোয়াইটস’-এ। দেশের হয়ে ইতিমধ্যেই ২৬টি ম্যাচ খেলেছেন সরপ্রীত। গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ভারতীয় বংশোদ্ভূত হওয়ায় চাইলে ভারতের হয়েও খেলতে পারতেন তিনি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের জার্সিতেই নিজের কেরিয়ার গড়ার সিদ্ধান্ত নেন।
অন্যদিকে, কাতারের প্রাথমিক বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেয়েছেন আরও দুই ভারতীয় বংশোদ্ভূত ফুটবলার নাইল মেসন এবং তাহসিন মহম্মদ। নাইলের মা ভারতীয়। ছোটবেলা থেকেই তিনি ইউরোপের বিখ্যাত ক্লাবগুলির যুব দলে খেলেছেন। রিয়াল মাদ্রিদ, সাউদাম্পটন ও অ্যাস্টন ভিলার মতো ক্লাবে প্রশিক্ষণ নেওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর ফুটবলজীবনকে সমৃদ্ধ করেছে। যদিও এখনও কাতারের সিনিয়র দলের হয়ে অভিষেক হয়নি, তবুও জাতীয় দলের ভাবনায় জায়গা করে নেওয়াই তাঁর প্রতিভার বড় প্রমাণ।
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন তরুণ তাহসিন মহম্মদ। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই তিনি কাতারের ফুটবলে নিজের প্রতিভার ছাপ ফেলেছেন। তাঁর বাবা-মায়ের শিকড় কেরলে। অল্প বয়সেই কাতার স্টারস লিগে খেলার সুযোগ পেয়ে নজর কাড়েন তাহসিন। ইতিমধ্যেই কাতারের সিনিয়র দলের হয়ে দুটি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বেও মাঠে নেমেছেন এই তরুণ মিডফিল্ডার। ফলে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দলে তাঁর সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ভারত এখনও বিশ্বকাপের মঞ্চে পৌঁছতে না পারলেও ভারতীয় বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের উপস্থিতি নিঃসন্দেহে দেশের সমর্থকদের জন্য গর্বের বিষয়। হয়তো এবার অনেক ভারতীয় সমর্থক নিউজিল্যান্ড বা কাতারের খেলাতেও বাড়তি আবেগ খুঁজে পাবেন। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে ভারতীয় শিকড়ের ফুটবলারদের দেখা, দেশের ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এক অন্যরকম আনন্দ ও আশার বার্তা হয়ে উঠতে পারে।

