তিলকের তাণ্ডবে ভেঙে পড়ল পঞ্জাব, টানা পঞ্চম হার শ্রেয়সদের

আইপিএলের প্লে-অফের লড়াই থেকে আগেই কার্যত ছিটকে গিয়েছিল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। প্রথম চারে শেষ করার আর কোনও সম্ভাবনাই ছিল না তাদের সামনে। তবু সেই মুম্বইয়ের কাছেই হারতে হল পঞ্জাব কিংসকে। টানা পাঁচ ম্যাচে পরাজয়ের ধাক্কায় আরও চাপে পড়ে গেল শ্রেয়স আয়ারের দল। ১২ ম্যাচ শেষে তাদের পয়েন্ট দাঁড়াল ১৩। অন্য দিকে মুম্বইয়ের পয়েন্ট হল ৮। যদিও তালিকার নীচের দিকেই রয়েছে তারা, কিন্তু এই জয় তাদের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দিল।
২০১ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা মোটামুটি ভালই করেছিল মুম্বই। তবে রান তোলার গতি খুব বেশি ছিল না। রায়ান রিকেলটন শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলছিলেন। অন্য দিকে রোহিত শর্মা বড় শট খেলতে সমস্যায় পড়ছিলেন। যদিও একটি ওভারে জ়েভিয়ার বার্টলেটকে পরপর দুই ছয় মেরে চাপ কমানোর চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু তার পরের ওভারেই আজমাতুল্লা ওমরজ়াই ফিরিয়ে দেন রিকেলটনকে। ২৩ বলে ৪৮ রান করে থামেন তিনি। কিছু পরে ২৫ রান করে আউট হন রোহিতও। নমন ধীরও বড় রান করতে পারেননি।
৮৮ রানে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল মুম্বই। সেই সময় দলের হাল ধরেন তিলক বর্মা এবং শেরফানে রাদারফোর্ড। প্রথমে দু’জনে মিলে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে তোলেন। রাদারফোর্ড এক প্রান্ত সামলালেও মূল আক্রমণের দায়িত্ব নেন তিলক। দুরন্ত ছন্দে একের পর এক বড় শট খেলতে শুরু করেন তিনি। পরে উইল জ্যাকসকে সঙ্গে নিয়েও দ্রুত রান তোলেন তিলক। মাত্র ২০ বলে দু’জনে মিলে ৫৬ রান যোগ করেন। জ্যাকস ১০ বলে ২৫ রান করে অপরাজিত থাকেন।
শেষ পর্যন্ত মাত্র ৩৩ বলে ৭৫ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিলক বর্মা। তাঁর ইনিংসে ছিল ছয়টি চার এবং ছয়টি ছয়। জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় শেষ ছয়টি মারার পর তাঁর উচ্ছ্বাসই বুঝিয়ে দেয়, এই ইনিংস তাঁর কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ছয় উইকেট হাতে রেখেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে মুম্বই।
এর আগে টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভাল শুরু করেছিল পঞ্জাব। প্রিয়াংশ আর্য এবং প্রভসিমরন সিংহ শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন। বিশেষ করে প্রভসিমরন এক ওভারে টানা তিনটি চার মেরে চাপ বাড়িয়ে দেন। তবে ষষ্ঠ ওভারে দীপক চহরের বলে আউট হন প্রিয়াংশ। এর পর কুপার কনোলিও বড় রান করতে পারেননি। মাঝের ওভারগুলোতে আচমকাই ধস নামে পঞ্জাবের ব্যাটিংয়ে। শ্রেয়স আয়ার, সূর্যাংশ শেড়গে এবং শশাঙ্ক সিংহ দ্রুত ফিরে যান। প্রভসিমরন ৫৭ রান করলেও দলকে বড় ভরসা দিতে পারেননি।
১৪০ রানে সাত উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যাওয়া পঞ্জাবকে লড়াইয়ে ফেরান আজমাতুল্লা ওমরজ়াই। মাত্র ১৭ বলে ৩৮ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। শেষে বিষ্ণু বিনোদ এবং জ়েভিয়ার বার্টলেটও কিছু গুরুত্বপূর্ণ রান যোগ করেন। সেই লড়াকু সংগ্রহও শেষ পর্যন্ত মুম্বইয়ের সামনে যথেষ্ট হল না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

6 + 1 =