ইস্টবেঙ্গল প্রাক্তনীরাই ক্লাবের ‘দালাল’, বিস্ফোরক অস্কার

মুম্বই সিটি এফসির বিরুদ্ধে দুর্দান্ত জয়ের পর এবার ঘরের মাঠে পাঞ্জাবের মুখোমুখি হবে ইস্টবেঙ্গল। সোমবার যুবভারতীতে পাঞ্জাব এফসির বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নামবে অস্কার বাহিনী। তার আগে সাংবাদিক সম্মেলনে এসে কোচ অস্কার ব্রুঁজো বোমা ফাটিয়ে গেলেন। বিস্ফোরক মেজাজে একের পর এক আক্রমণ করে গেলেন ইস্টবেঙ্গলেরই প্রাক্তন ফুটবলারদের৷ পাঞ্জাব ম্যাচের আগে রবিবার নাম করে ক্লাবের কয়েকজন প্রাক্তন ফুটবলারদের ‘দালাল’, ‘ক্যান্সার’, বলে অভিহিত করলেন অস্কার। স্পষ্ট জানালেন, এই ব্যক্তিদের জন্যই ক্লাব এতদিন সাফল্য পায়নি।
অস্কার বলেন, “কেরল ম্যাচের পর একটা বিপ্লব হয়ে গিয়েছিল। আমাকে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান শুনতে হয়েছিল। তাই একটা বার্তা স্পষ্ট করে দিতে চাই আজ। অনেকেই ইদানীং ক্লাবকে নিয়ে কথা বলছে। কিন্তু তারা ক্লাবের সাফল্য চায় না। এই প্রাক্তন খেলোয়াড়দের নাম উল্লেখ করতে চাই। রহিম আলি (নবি), সন্দীপ নন্দী, আলভিটো ডি’কুনহা। এই ক’দিনে ওদের এক বারও ট্রফি নিয়ে কথা বলতে দেখিনি। আসলে ওরা ক্লাবের প্রাক্তন ব্রোকার (দালাল)। ওরা সব কিছুতেই খারাপ খোঁজে। সব সাফল্যকে ছোট করে দেখতে চায়। ওরা ক্লাবের ক্যান্সার। তাই এই বার্তা সমর্থক এবং ক্লাব পরিচালন সমিতির জন্য। এই ধরনের লোকজন ক্লাবের পক্ষে ক্ষতিকর।”
এই অস্কারের কোচিং স্টাফদের মধ্যে ছিলেন গোলকিপিং কোচ ছিলেন সন্দীপ নন্দী। গত বছর  সুপার কাপ খেলতে গোয়ায় পৌঁছেই সন্দীপের সঙ্গে তর্কাতর্কি হয় অস্কারের। গোয়া ছেড়ে সোজা কলকাতায় চলে আসেন ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন গোলকিপার কোচ।
অস্কার দল নিয়ে বলেছেন, “এই মরশুমে সাজঘরের পরিবেশ দুর্দান্ত। শক্তিশালী মানসিকতা নিয়ে নামছে ফুটবলারেরা। বাইরের কোনও আওয়াজে ওরা কান দিচ্ছে না। ওরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এই চ্যাম্পিয়ন ফুটবলারদের দলে পেয়ে আমি সৌভাগ্যবান। একটাই জিনিস আমাদের নেই। সেটা হল ট্রফি। তাই সেটা জিততে ফুটবলারেরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।”
পাঞ্জাব এফসি নিয়ে অস্কারের বক্তব্য, “অন্য ম্যাচের সঙ্গে এই ম্যাচকে আলাদা করে দেখছি না। মরসুমের শুরুতে যে লক্ষ্য ছিল, কাল সেটা পূরণ করতে পারি। অর্থাৎ প্রথম ছয়ে থাকা। আমরা ম্যাচটাকে আর একটা হোম ম্যাচ হিসাবে দেখছি। তবে পঞ্জাব শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। সুপার কাপের সেমিফাইনালে ওদের বিরুদ্ধে খেলেছি। মরসুমের শুরুর দিকেই বলেছিলাম পঞ্জাব এই মরসুমে চমকে দিতে পারে। ওদের দলে ভারসাম্য রয়েছে। মিডফিল্ডে ভাল ফুটবলার রয়েছে। তাই আমাদের কাছে কঠিন ম্যাচ।”
ডার্বির আগে এই ম্যাচে জয় পেয়ে আত্মবিশ্বাস দ্বিগুণ করে নিতে চাইবেন অস্কার ব্রুঁজোর দল। এদিকে পাঞ্জাব ম্যাচে অস্কার নাও খেলাতে পারেন বিদেশি ডিফেন্ডার কেভিন সিবিল্লেকে। ইতিমধ্যেই তিনটি হলুদ কার্ড রয়েছে কেভিনের। আর একটি কার্ড হলে, ডার্বিতে নির্বাসিত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে পাঞ্জাবম্যাচে কেভিনকে নিয়ে ঝুঁকি নিতে চাইবেন না অস্কার। দলের মাঝমাঠে ফিরতে পারেন মহম্মদ রশিদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × 4 =