সহজ ম্যাচকে কঠিন করে শেষ পর্যন্ত দারুণ নাটকীয় জয় তুলে নিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে ২ উইকেটে হারিয়ে লিগ তালিকার শীর্ষে উঠে এল তারা। এই জয়ে প্লে-অফের পথে অনেকটাই এগিয়ে গেল বেঙ্গালুরু। অন্যদিকে, এই হার মুম্বইয়ের শেষ চারের আশা কার্যত শেষ করে দিল। ম্যাচের নায়ক দু’জন— ভুবনেশ্বর কুমার এবং ক্রুণাল পাণ্ডিয়া। রায়পুরের উইকেটে শুরু থেকেই বোলারদের জন্য সাহায্য ছিল। টসে জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেন বেঙ্গালুরু অধিনায়ক রজত পাতিদার। সেই সিদ্ধান্ত যে একেবারে সঠিক ছিল, তা প্রমাণ করে দেন ভুবনেশ্বর কুমার। নিজের অভিজ্ঞতা এবং দুর্দান্ত সুইং বোলিং দিয়ে শুরু থেকেই চাপে ফেলে দেন মুম্বইকে। দ্বিতীয় ওভারেই ফেরান রায়ান রিকেলটনকে। এরপর রোহিত শর্মা ভালো শুরু করেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ভুবির বলে আউট হন তিনি। ঠিক পরের বলেই ফিরে যান সূর্যকুমার যাদবও। দু’জনকেই প্রায় একই ধরনের ডেলিভারিতে সাজঘরে পাঠান ভুবনেশ্বর।
চাপের মুখে পড়ে গেলেও মুম্বইকে টেনে তোলেন তিলক বর্মা ও নমন ধীর। দু’জনে মিলে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে ম্যাচে ফেরান দলকে। নমন ৪৭ রান করে আউট হন, আর তিলক করেন ৫৭ রান। কিন্তু শেষ দিকে আবারও ভুবনেশ্বর আঘাত হানেন। ফলে বড় রান তুলতে পারেনি মুম্বই। নির্ধারিত ২০ ওভারে তাদের ইনিংস থামে ১৬৬ রানে। ভুবনেশ্বর একাই নেন ৪ উইকেট। এছাড়া হ্যাজেলউড, রশিখ সালাম ও রোমারিও শেফার্ড একটি করে উইকেট পান। ১৬৭ রানের লক্ষ্য খুব কঠিন ছিল না। কিন্তু শুরুতেই ধাক্কা খায় বেঙ্গালুরু। দীপক চাহারের প্রথম বলেই আউট হন বিরাট কোহলি। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে শূন্য রানে ফিরলেন তিনি। এরপর দেবদত্ত পাড়িক্কল ও রজত পাতিদারও দ্রুত ফিরে যান। মাঝের দিকে জ্যাকব বেথেল ধীরগতির ইনিংস খেলায় চাপ আরও বাড়ে। জিতেশ শর্মা ও টিম ডেভিডও বড় রান করতে পারেননি। করবিন বশ দুর্দান্ত বোলিং করে চারটি উইকেট তুলে নেন।
এই কঠিন পরিস্থিতিতে একাই লড়াই চালিয়ে যান ক্রুণাল পাণ্ডিয়া। শুরুতে একটু সময় নিলেও পরে একের পর এক চার-ছক্কায় ম্যাচের রং বদলে দেন। চোট পেয়েও লড়াই থামাননি তিনি। একটা সময় প্রায় এক পায়ে দাঁড়িয়ে ব্যাট করছিলেন, তবু মুম্বই বোলারদের উপর চাপ তৈরি করেন। ৪৬ বলে ৭৩ রানের অসাধারণ ইনিংসে বেঙ্গালুরুকে জয়ের খুব কাছে পৌঁছে দেন। শেষ ওভার ছিল পুরো ম্যাচের সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্ত। ওয়াইড, নো বল, উইকেট— সবকিছু মিলিয়ে উত্তেজনা চরমে ওঠে। শেষ বলে দরকার ছিল ২ রান। রান আউটের সম্ভাবনা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত বেঁচে যান রশিখ সালাম। আর তাতেই ২ উইকেটের অবিশ্বাস্য জয় নিশ্চিত করে বেঙ্গালুরু।

