তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বাড়ছে প্রতিবাদের ঢেউ

কলকাতা : ’২৬–এর বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় পর্যুদস্ত হওয়ার পরে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে এখন প্রতিবাদের ঢেউ। নিচুতলার বেশ কয়েকজন নেতা মুখ খুলতে শুরু করেছেন। ক্রমশ সংখ্যাটা বাড়ছে। রবিবারও তা অব্যাহত|

কলকাতার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার ইলোরা সাহা ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘দীর্ঘ ৪০ বছরের রাজনৈতিক ঐতিহ্য থাকা সত্ত্বেও ভোটে কোনও গুরুত্বই দেওয়া হয়নি। দলকে বারবার জানালেও কোনও লাভ হয়নি।’ আবার, ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার বিশ্বরূপ দে দায়ী করেছেন পুরসভার দুর্বল পরিষেবা ও পরিকাঠামোকে। তাঁর কথায়, ‘পুরসভার কাঠামো দুর্বল। ফলে, নিকাশি–সহ কয়েকটি ক্ষেত্রে মানুষকে পরিষেবা দিতে পারিনি। যার প্রভাব পড়েছে নির্বাচনের ফলাফলে।’ এমনকী, উত্তর কলকাতার এক কাউন্সিলার মার খেয়েও দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ফোন না–পাওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘রাতারাতি জার্সি বদলানো কিছু গুন্ডার মারে কানে গুরুতর চোট পেয়েছি। কিন্তু, দলের কেউ একজন ফোন করে কেমন আছি— সেটুকুও জানতে চাননি।’

দলের এই টালমাটাল অবস্থায় শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি পাঁচ নেতা ও মুখপাত্রকে শো–কজ করেছিল। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় ঋজু দত্ত–সহ তিনজনকে সাসপেন্ডের পথেই হেঁটেছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুধু সাসপেনশন দিয়ে এই ক্ষোভের আগুন নেভানো সম্ভব নয়।

তাঁদের অনেকে বলছেন, নির্বাচনী বিপর্যয়ের পরে একদিকে বিজেপির জয়োল্লাস, অন্যদিকে দলের অন্দরে ‘বেসুরো’দের ভিড় সামলে এখন ঘর আগলানোই সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ জোড়াফুল শিবিরের কাছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

six + seventeen =