দলেই থাকুন বা বেঞ্চে বসে থাকুন—মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের সঙ্গে রোহিত শর্মার সম্পর্ক যেন আলাদা এক আবেগের। তাই অনেকদিন পর মাঠে ফিরে আবারও বুঝিয়ে দিলেন, কেন তাঁকে ঘিরেই এত আস্থা। প্রায় তিন সপ্তাহ চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকার পর এই ম্যাচেই দলে ফিরলেন তিনি। আর ফিরেই খেললেন দুর্দান্ত এক ইনিংস।
হ্যামস্ট্রিংয়ের সমস্যার জন্য বেশ কিছু ম্যাচ মিস করেছিলেন রোহিত। তবে পুরোপুরি ফিট হয়ে ফেরার জন্য তিনি যে কতটা পরিশ্রম করেছেন, তার প্রমাণ মিলেছে তাঁর পারফরম্যান্সে। ম্যাচের আগের দিন ঐচ্ছিক অনুশীলন থাকলেও দলের বেশিরভাগ ক্রিকেটার নেটে যাননি। কিন্তু রোহিত একাই হাজির হন, সঙ্গে ছিলেন কোচ মাহেলা জয়বর্ধনে। সেই অতিরিক্ত পরিশ্রমই যেন ম্যাচে তাঁর ব্যাটে প্রতিফলিত হল।
এদিন ৪৪ বলে ৮৪ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁর ব্যাট থেকে বেরোয় ছয়টি চার এবং সাতটি ছক্কা। পুরনো দিনের সেই আক্রমণাত্মক রোহিতকেই যেন আবার দেখা গেল মাঠে। যদিও শতরান করার দারুণ সুযোগ ছিল, কিন্তু আক্রমণাত্মক খেলতে গিয়েই আউট হয়ে যান তিনি।
ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে লখনউ সুপার জায়ান্টস তোলে ২২৮ রান। দলের হয়ে সবচেয়ে বেশি রান করেন নিকোলাস পুরান, মাত্র ২১ বলে ৬৩। এছাড়া মিচেল মার্শের ব্যাট থেকে আসে ৪৪ রান। শেষের দিকে হিম্মত সিংও গুরুত্বপূর্ণ ৪০ রান যোগ করেন। তবে অধিনায়ক ঋষভ পন্থ আবারও বড় রান করতে ব্যর্থ হন, ১০ বলে মাত্র ১৫ রান করেন তিনি। মুম্বইয়ের হয়ে বোলিংয়ে তিনটি উইকেট নেন জশপ্রীত বুমরাহ, যদিও তিনি কিছুটা খরুচে ছিলেন।
বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই দাপট দেখায় মুম্বই। ওপেনিং জুটিতেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। রোহিতের সঙ্গে রায়ান রিকেলটনও ছিলেন দুর্দান্ত ছন্দে। মাত্র ৩২ বলে ৮৩ রান করেন তিনি। দু’জনে মিলে ১৪৩ রানের বিশাল পার্টনারশিপ গড়ে ম্যাচ প্রায় হাতের মুঠোয় নিয়ে আসেন।
তবে এই দুই ওপেনার আউট হওয়ার পর মুম্বইয়ের ইনিংসে খানিকটা ধাক্কা লাগে। দ্রুত কয়েকটি উইকেট পড়ে যায় এবং রানের গতি কিছুটা কমে। তবুও প্রথম দিকের মজবুত ভিতের উপর ভর করেই শেষ পর্যন্ত লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে দলটি।
এই জয়ের ফলে মুম্বইয়ের প্লে-অফের আশা এখনও বেঁচে রইল। আর রোহিত শর্মার এই ইনিংস শুধু একটা ম্যাচ জেতাল না, দলের আত্মবিশ্বাসও অনেকটাই বাড়িয়ে দিল। তাঁর প্রত্যাবর্তন যে দলের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না।

