অহমদাবাদের ঘরের মাঠে গুজরাতের সামনে লক্ষ্য খুব বেশি বড় নয় ছিল না—মাত্র ১৬৪ রান। তবু সেই রান তাড়া করতে গিয়ে শেষ ওভার পর্যন্ত লড়াই করতে হল গুজরাতকে। শেষ পর্যন্ত সাই সুদর্শনের দায়িত্বশীল অর্ধশতরান এবং ওয়াশিংটন সুন্দরের ঠান্ডা মাথার ব্যাটিংয়ের উপর ভর করেই চার উইকেটে জয় ছিনিয়ে নেয় তারা। টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে পঞ্জাব, কিন্তু শুরু থেকেই বড় ধাক্কা খায় তারা। ম্যাচের প্রথম ওভারেই মহম্মদ সিরাজ জোড়া আঘাত হানেন। পরপর দুই বলে প্রিয়াংশ আর্য ও কুপার কনোলিকে ফিরিয়ে দিয়ে পঞ্জাবকে চাপে ফেলে দেন। দলের দুই নির্ভরযোগ্য ব্যাটার দ্রুত আউট হয়ে যাওয়ায় ব্যাটিং লাইনআপ নড়বড়ে হয়ে পড়ে। এরপর প্রভসিমরন সিংহ ও শ্রেয়স আয়ার কিছুটা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং তৃতীয় উইকেটে ৩৩ রান যোগ করেন। কিন্তু প্রভসিমরন আউট হতেই আবার ধস নামে। অল্প সময়ের মধ্যে নেহাল ওয়াধেরা ও শ্রেয়সও ফিরে গেলে মাত্র ৪৭ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে চরম সংকটে পড়ে পঞ্জাব।
এই কঠিন পরিস্থিতিতে সূর্যাংশ শেড়গে ও মার্কাস স্টোইনিস দায়িত্ব নেন। তাঁদের মধ্যে ষষ্ঠ উইকেটে গুরুত্বপূর্ণ ৭৯ রানের জুটি গড়ে ওঠে। শেড়গে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে শুরু করেন এবং একটি ওভারে তিনটি ছয় ও দুটি চার মেরে ম্যাচের মোড় ঘোরানোর চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত তিনি ২৯ বলে ৫৭ রান করে আউট হন। স্টোইনিসও ৩১ বলে ৪০ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন। শেষ দিকে দ্রুত উইকেট পড়ায় পঞ্জাব ১৬৩ রানে থেমে যায়। জবাবে গুজরাতের শুরুটাও ভালো হয়নি। দ্রুত শুভমন গিল আউট হলেও সাই সুদর্শন ও জস বাটলার ইনিংস গড়ে তোলেন। দু’জনে মিলে দ্বিতীয় উইকেটে ৫৩ রান যোগ করেন। বাটলার ২৫ রান করে ফেরেন। এরপর মাঝের ওভারে কিছুটা ধাক্কা খেলেও সুদর্শন নিজের ছন্দ বজায় রাখেন। শেষদিকে ম্যাচ জয়ের দায়িত্ব এসে পড়ে ওয়াশিংটন সুন্দরের কাঁধে। তিনি ধৈর্য ধরে খেলেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী শট নেন। শেষ ওভারে জয়ের জন্য দরকার ছিল ১১ রান। প্রথম বলেই চার মেরে চাপ কমান আরশাদ খান। এরপর ওভারের পাঁচ নম্বর বলে একটি দারুণ ছয় মেরে ম্যাচ নিজেদের দখলে নিয়ে নেন। ২৩ বলে অপরাজিত ৪০ রানের ইনিংস খেলে সুন্দরের উপস্থিত বুদ্ধি ও আত্মবিশ্বাসই গুজরাতকে জয়ের পথে নিয়ে যায়।

