একে সত্যিই দাপট বলা যায়। প্রতিপক্ষের মাঠে গিয়েই এমন নিয়ন্ত্রণে ম্যাচ জেতা সহজ কথা নয়, কিন্তু সেটাই করে দেখাল কলকাতা নাইট রাইডার্স। যে দলকে হারানো হল, তারা আবার টানা পাঁচ ম্যাচে অপরাজিত ছিল এবং নিয়মিতভাবেই দু’শোর বেশি রান তুলে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখছিল। সেই শক্তিশালী সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে এদিন মাত্র একশো পঁয়ষট্টি রানে থামিয়ে দিল নাইটদের বোলিং আক্রমণ।
ম্যাচের শুরুতেই টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় হায়দরাবাদ। রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামের ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে তাদের এই সিদ্ধান্ত অস্বাভাবিক ছিল না। শুরুটাও খারাপ হয়নি। যদিও অভিষেক শর্মাকে দ্রুত ফিরিয়ে দেন কার্তিক ত্যাগী, কিন্তু ট্র্যাভিস হেড নিজের স্বভাবসিদ্ধ আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলতে থাকেন। মাত্র আটাশ বলে একষট্টি রান করে তিনি নাইটদের বোলারদের উপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করেন। চার-ছক্কায় সাজানো সেই ইনিংসে কোনও বোলারই প্রথমদিকে তাঁকে থামাতে পারেননি।
ঈশান কিষানও হেডকে ভালো সঙ্গ দেন। তিনি ঊনত্রিশ বলে বিয়াল্লিশ রান করেন এবং মনে হচ্ছিল হায়দরাবাদ আরও একবার বড় স্কোরের দিকে এগোচ্ছে। কিন্তু ঠিক তখনই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন দুই স্পিনার—সুনীল নারিন ও বরুণ চক্রবর্তী। বরুণের ঘূর্ণিতে থামেন হেড, আর নারিন ফেরান ঈশানকে। এই দুই উইকেটই হায়দরাবাদের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামায়।
এরপর আর কেউ দাঁড়িয়ে লড়াই করতে পারেননি। একের পর এক ব্যাটার দ্রুত প্যাভিলিয়নে ফিরে যান। মাঝের ও শেষের দিকের ব্যাটাররা নারিন-বরুণের স্পিনের সামনে কার্যত অসহায় হয়ে পড়েন। একসময় যেখানে দলের স্কোর ছিল একশো পাঁচে দুই, সেখান থেকে তারা গুটিয়ে যায় একশো পঁয়ষট্টি রানে। বরুণ তিনটি উইকেট নেন, নারিন ও কার্তিক দুটি করে উইকেট শিকার করেন। পাশাপাশি নারিন আইপিএলে নিজের দুইশোতম উইকেটও পূর্ণ করেন, যা তাঁর দীর্ঘদিনের ধারাবাহিকতার প্রমাণ।
এই তুলনায় ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে কলকাতা কোনও তাড়াহুড়ো করেনি। অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে ও তরুণ ব্যাটার অঙ্গকৃষ রঘুবংশী দায়িত্ব নিয়ে ব্যাট করেন। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পরিকল্পিতভাবে রান তুলতে থাকেন তাঁরা। অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি না নিয়ে ধীরে ধীরে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন। ফলে সাত উইকেট হাতে রেখেই সহজ জয় তুলে নেয় নাইটরা।
এই জয়ের ফলে তাদের পয়েন্ট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল সাতে, যদিও লিগ তালিকায় তারা এখনও অষ্টম স্থানে রয়েছে। তবুও টানা তিনটি জয়ে দলের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বেড়েছে। সমর্থকেরাও আবার নতুন করে প্লে-অফের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। এমন পারফরম্যান্স বজায় রাখতে পারলে আগামী ম্যাচগুলোতেও নাইটদের কাছ থেকে একই রকম লড়াই আশা করা যায়।

