আইপিএলের সবচেয়ে চর্চিত লড়াইগুলোর একটি চেন্নাই সুপার কিংস বনাম মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। সেই মহারণে এবার একেবারে মুম্বইয়ের ঘরের মাঠ ওয়াংখেড়েতে দাপট দেখাল চেন্নাই। একতরফা ম্যাচে তারা হারিয়ে দিল মুম্বইকে ১০৩ রানের বিশাল ব্যবধানে। এই জয়ের ফলে চেন্নাই শুধু গুরুত্বপূর্ণ দুই পয়েন্টই পেল না, প্লে-অফের লড়াইয়েও নতুন করে ফিরে এল।
টসে জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মুম্বই অধিনায়ক হার্দিক পাণ্ডিয়া। শুরুতে সেই সিদ্ধান্ত সঠিক বলেই মনে হচ্ছিল। চেন্নাইয়ের ওপেনার ও অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়াড় বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। সরফরাজ খান, শিবম দুবে, ডেওয়াল্ড ব্রেভিসদের মতো ব্যাটাররাও বড় রান করতে ব্যর্থ হন। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় চেন্নাই। মুম্বইয়ের বোলার আল্লা গজনফার ও অশ্বনী কুমার দুর্দান্ত নিয়ন্ত্রণে বল করে চেন্নাইয়ের ব্যাটিংকে আটকে দেন।
কিন্তু এক প্রান্ত আগলে দাঁড়িয়ে ছিলেন সঞ্জু স্যামসন। বাকিরা যখন ব্যর্থ, তখন তিনি একাই দলের হাল ধরেন। শুরুতে ধীরস্থিরভাবে খেললেও পরে হাত খুলে মারতে শুরু করেন। মুম্বইয়ের বোলারদের উপর চাপ তৈরি করে একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকান তিনি। মাত্র ৫৪ বলে অপরাজিত ১০১ রান করেন সঞ্জু। তাঁর ইনিংসে ছিল ১০টি চার এবং ৬টি ছক্কা। এই দুর্দান্ত শতরানের উপর ভর করেই চেন্নাই ২০ ওভারে তোলে ২০৭ রান।
বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই বিপর্যয়ে পড়ে মুম্বই। নিয়মিত উইকেট হারাতে থাকে তারা। ওপেনারদের কেউই দলকে ভালো শুরু এনে দিতে পারেননি। রোহিত শর্মার অনুপস্থিতি স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। মিডল অর্ডারের তারকারাও দায়িত্ব নিতে ব্যর্থ হন। চাপের মুখে ব্যাটাররা ভুল শট খেলতে থাকেন।
চেন্নাইয়ের বোলিং আক্রমণের সামনে মুম্বই যেন অসহায় হয়ে পড়ে। বিশেষ করে স্পিনার আকিল হুসেন দুর্দান্ত বোলিং করেন। তাঁর ঘূর্ণিতে দিশেহারা হয়ে যায় মুম্বইয়ের ব্যাটিং লাইনআপ। অন্য বোলাররাও নিখুঁত লাইন-লেন্থে বল করে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখেন। শেষ পর্যন্ত মাত্র ১০৪ রানেই গুটিয়ে যায় মুম্বইয়ের ইনিংস।
এই হার মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে পরাজয়ের রেকর্ড হিসেবে থেকে গেল। অন্যদিকে চেন্নাইয়ের কাছে এটি আত্মবিশ্বাস ফেরানোর জয়। সাত ম্যাচে ছয় পয়েন্ট নিয়ে তারা আবার প্লে-অফের দৌড়ে ঢুকে পড়েছে।
সব মিলিয়ে ম্যাচের নায়ক নিঃসন্দেহে সঞ্জু স্যামসন। তাঁর শতরানই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। পরে বোলাররা সেই কাজ নিখুঁতভাবে শেষ করেন। ঘরের মাঠে মুম্বইকে হারিয়ে চেন্নাই বুঝিয়ে দিল, তারা এখনও লড়াই থেকে ছিটকে যায়নি।

