#ECI
#assembly
#election
কলকাতা : প্রথম দফার ভোটের আগে নীরবতা পর্ব শুরু হতেই বহিরাগত রাজনৈতিক কর্মীদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। ২৩ এপ্রিল ভোট। তার ৪৮ ঘণ্টা আগে, অর্থাৎ সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে প্রচার বন্ধ। আর সেই সময়সীমা পেরোতেই বাইরে থেকে আনা দলীয় কর্মী, সমর্থক ও পদাধিকারীদের কেন্দ্র ছাড়তে হবে। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে সব জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে এই মর্মে কড়া চিঠি পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রচারপর্বে বাইরের লোক এনে ভিড় জমানো নতুন নয়। কিন্তু প্রচার শেষের পরেও তাঁদের উপস্থিতি ভোটারকে প্রভাবিত করতে পারে, সমান মাঠ নষ্ট হয়। তাই ভোট শেষ হওয়ার ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ভোটার নন, এমন সব রাজনৈতিক ব্যক্তিকে সরিয়ে দিতে হবে।
এই নির্দেশ কার্যকর করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে একসঙ্গে কাজ করতে বলা হয়েছে। হোটেল, লজ, অতিথিশালা, ধর্মশালা—সব জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে বাইরের রাজনৈতিক কর্মীদের খুঁজে বের করার কথা বলা হয়েছে। জেলা ও রাজ্যের সীমানায় নাকা-তল্লাশি বসিয়ে অচেনা লোকের ঢোকা আটকাতে হবে। উড়ন্ত দল, বিশেষ নজরদারি দল, দ্রুত ব্যবস্থা দল ও সেক্টর আধিকারিকদের সজাগ থাকতে বলা হয়েছে। কোনও অনিয়ম দেখলেই সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে হবে।
তবে কমিশন স্পষ্ট করেছে, এই নিষেধাজ্ঞা সাধারণ নাগরিক, কেন্দ্রের ভোটার, কর্তব্যরত আধিকারিক বা কমিশনের অনুমোদিত ব্যক্তিদের জন্য নয়। শুধু বাইরে থেকে আনা রাজনৈতিক কর্মীদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
প্রতিটি থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিককে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত জানাতে হবে যে, তাঁর এলাকায় নিয়ম মানা হয়েছে এবং বহিরাগত কেউ নেই। পুলিশ সুপাররা জেলাশাসকের মাধ্যমে মঙ্গলবার রাত ৯টার মধ্যে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে একত্রিত রিপোর্ট পাঠাবেন।
কোনও আধিকারিকের ঢিলেমি, পক্ষপাত বা গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। এমন হলে আইন মেনে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। কমিশনের এক শীর্ষ কর্তার মন্তব্য, “নীরবতা পর্বে ভোটারের স্বাধীনতা রক্ষাই লক্ষ্য। বাইরের লোক রেখে প্রভাব খাটানোর দিন শেষ।”
দ্বিতীয় দফার ভোট ২৯ এপ্রিল। তার নীরবতা পর্ব শুরু হবে ২৭ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা থেকে। সেখানেও একই নিয়ম কার্যকর হবে।

