ব্যর্থ ডি’ককের শতরান !  শ্রেয়স-প্রভসিমরনের দাপটে মুম্বইকে হেলায় হারাল পাঞ্জাব

হারের হ্যাটট্রিকের পর ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় মাঠে নেমেছিল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। কিন্তু নিজেদের মাঠে ব্যাট হাতে লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত আর জয়ের মুখ দেখা হল না। দুর্দান্ত ব্যাটিং করেও বোলিং ব্যর্থতায় পাঞ্জাব কিংসের কাছে সহজেই হার মানতে হল সূর্যকুমার যাদবদের। ১৯৬ রানের লক্ষ্য দিয়েও প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে পারেনি মুম্বই। ফলে টানা চতুর্থ পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হল তাদের।
টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় পাঞ্জাব। শুরুতেই সেই সিদ্ধান্ত সঠিক প্রমাণ করেন অর্শদীপ সিং। ইনিংসের এক ওভারেই পরপর দুই বলে রায়ান রিকেলটন ও সূর্যকুমার যাদবকে ফিরিয়ে দেন তিনি। গোল্ডেন ডাক করে ফেরেন সূর্য, ফলে শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় মুম্বই।
চাপের মুখে দলকে টেনে তোলার দায়িত্ব নেন কুইন্টন ডি’কক। সুযোগ পেয়েই তিনি বুঝিয়ে দিলেন নিজের সামর্থ্য। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাট করে পাঞ্জাব বোলারদের উপর চাপ বাড়ান তিনি। একের পর এক দৃষ্টিনন্দন শটে মাত্র ৬০ বলে ১১২ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেন ডি’কক। তাঁর ইনিংসে ছিল ৮টি চার ও ৭টি ছক্কা। আইপিএল কেরিয়ারে এটি তাঁর তৃতীয় শতরান।
ডি’কককে দারুণ সঙ্গ দেন নমন ধীর। তিনিও অর্ধশতরান করে দলকে বড় স্কোরের ভিত গড়ে দেন। ৫০ রান করেন তিনি। দু’জনের মধ্যে ১২২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি মুম্বইকে ম্যাচে ফেরায়। শেষ দিকে কিছু দ্রুত রান তুলে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৯৫ রান তোলে মুম্বই।
পাঞ্জাবের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন অর্শদীপ সিং। তিনি ২২ রান দিয়ে ৩টি উইকেট নেন। এছাড়া ফিল্ডিংয়েও নজর কাড়েন পাঞ্জাব অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ার। বাউন্ডারির ধারে অসাধারণ উপস্থিত বুদ্ধিতে হার্দিক পাণ্ডিয়ার ক্যাচ ধরিয়ে দেন তিনি। ক্যাচটি ম্যাচের অন্যতম সেরা মুহূর্ত হয়ে থাকে।
১৯৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে দুই উইকেট হারালেও পাঞ্জাব কখনও চাপে পড়েনি। ওপেনার প্রভসিমরন সিং এবং অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ার মিলে সহজেই রান তোলার কাজ এগিয়ে নিয়ে যান। মুম্বই বোলারদের বিরুদ্ধে তারা সাবলীল ব্যাটিং করেন এবং প্রয়োজনীয় রানরেট কখনও বাড়তে দেননি।
শ্রেয়স আয়ার অধিনায়কসুলভ ইনিংস খেলে ৬৬ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ৪টি ছক্কা। প্রতিযোগিতায় এটি তাঁর তৃতীয় অর্ধশতরান। অন্যদিকে প্রভসিমরন ছিলেন আরও বিধ্বংসী। ৮০ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেন তিনি। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ১১টি চার ও ২টি ছক্কা।
শেষ পর্যন্ত ২১ বল বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত করে পাঞ্জাব কিংস। টানা তিন হারের পর এই জয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেল তারা। অন্যদিকে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের চিন্তা আরও বাড়ল। ব্যাটিংয়ে ঝলক থাকলেও বোলিং বিভাগের ব্যর্থতা তাদের আবারও হতাশ করল। এখন ঘুরে দাঁড়াতে হলে দ্রুত সমাধান খুঁজতেই হবে মুম্বইকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

16 − six =