সোমবারের ম্যাচে রাজস্থান রয়্যালসের দুর্বলতা একেবারে স্পষ্ট করে দিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। চলতি মরসুমে আগের চার ম্যাচে জয় পাওয়া রাজস্থান আত্মবিশ্বাসে ভরপুর ছিল। বৈভব সূর্যবংশী, যশস্বী জয়সওয়াল ও রিয়ান পরাগদের ব্যাটিং প্রতিপক্ষদের চাপে ফেলছিল। কিন্তু হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে সেই দলকেই অসহায় দেখাল। প্রথমে ব্যাট করে হায়দরাবাদ তোলে ২১৬/৬। জবাবে রাজস্থান গুটিয়ে যায় মাত্র ১৫৯ রানে।
রাজস্থানের রান তাড়া শুরুই হয়েছিল দুঃস্বপ্নের মতো। মাত্র ৯ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় তারা। আইপিএলে নিজেদের সর্বনিম্ন স্কোরের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল একসময়। পরে রবীন্দ্র জাডেজা ও ডোনোভান ফেরেরা কিছুটা লড়াই করে দলের সম্মান রক্ষা করেন, কিন্তু জয় ফেরানোর মতো অবস্থায় আর কেউ পৌঁছতে পারেননি।
ম্যাচের প্রথম ওভারেই তিন উইকেট হারায় রাজস্থান। তরুণ বৈভব সূর্যবংশী বড় শট খেলতে গিয়ে বাউন্সারে ক্যাচ দেন। ধ্রুব জুরেলও পরের দিকেই আউট হন। তারপর লুয়ানদ্রে প্রিটোরিয়াসও ফিরলে চাপে পড়ে যায় পুরো দল। আইপিএলে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে প্রফুল হিঙ্গে দুর্দান্ত বোলিং করে নজর কাড়েন। পরে সাকিব হুসেনও উইকেট তুলে রাজস্থানের ব্যাটিং ভেঙে দেন।
এর আগে হায়দরাবাদের শুরুটাও খুব ভালো ছিল না। জফ্রা আর্চারের প্রথম বলেই অভিষেক শর্মা আউট হয়ে যান। প্রথম বলেই উইকেট হারানোর পর দল কিছুটা চাপে পড়ে। পাওয়ার প্লেতেও তাদের স্বাভাবিক আগ্রাসী ব্যাটিং দেখা যায়নি। ট্রেভিস হেডও ধীরে খেলছিলেন। তবে ঈশান কিষাণ আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে দলকে এগিয়ে নেন।
পাওয়ার প্লেতে ৫১ রান ওঠার পর রিয়ান পরাগ হেডকে ফিরিয়ে দেন। তারপর ঈশানের সঙ্গে জুটি বাঁধেন হেনরিখ ক্লাসেন। প্রথমে ধীরগতিতে খেললেও স্ট্র্যাটেজিক টাইম-আউটের পর দু’জনেই গতি বাড়ান। তুষার দেশপান্ডের এক ওভার থেকে ২১ রান ওঠে। বিশ্নোই ও আর্চারের ওভারেও দ্রুত রান আসে।
ঈশান ১৪তম ওভারে ৪০ রান করে আউট হন। সন্দীপ শর্মার বলে শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দেন তিনি। এরপর ক্লাসেনও ২৬ বলে ৪০ রান করে ফেরেন। তবে শেষের দিকে নীতীশ রেড্ডি ও সলিল অরোরার ঝড়ো ব্যাটিং হায়দরাবাদকে বড় স্কোর এনে দেয়। বিশেষ করে ১৮তম ওভারে সন্দীপের বলে ২৪ রান ওঠে। শেষ দুই ওভারে খুব বেশি রান না এলেও দল সহজেই ২০০ পেরিয়ে যায়। সেই রানই শেষ পর্যন্ত রাজস্থানের নাগালের বাইরে থেকে যায়।

