ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর ম্যাচ ঘিরে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল রোহিত শর্মা বনাম বিরাট কোহলির লড়াই। দুই ভারতীয় তারকা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে সরে দাঁড়ালেও জনপ্রিয়তা ও প্রভাব এখনও অটুট। তবে শেষ পর্যন্ত ব্যক্তিগত দ্বৈরথ নয়, দলগত পারফরম্যান্সেই বাজিমাত করল বেঙ্গালুরু। তারা ১৮ রানে হারাল মুম্বইকে।
টসে জিতে প্রথমে বেঙ্গালুরুকে ব্যাট করতে পাঠান মুম্বই অধিনায়ক হার্দিক পাণ্ডিয়া। সিদ্ধান্তটা পরে ভুল বলেই মনে হয়েছে। শুরু থেকেই মুম্বই বোলারদের উপর চড়াও হন ওপেনার ফিল সল্ট। তাঁর বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে দ্রুত রান তোলে বেঙ্গালুরু। মাত্র ৩৬ বলে ৭৮ রান করেন সল্ট। তাঁর ইনিংসে ছিল ছয়টি চার ও ছয়টি ছক্কা। তিনি আউট হওয়ার সময় দলের স্কোর ১২০।
অন্যদিকে বিরাট কোহলি অর্ধশতরান করলেও খুব দ্রুত রান তুলতে পারেননি। ৫০ রান করতে তিনি খেলেন ৩৮ বল। তবে অধিনায়ক রজত পাতিদার ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ম্যাচের গতি বদলে দেন। মাত্র ২০ বলে ৫০ রান করেন তিনি। চারটি চার ও পাঁচটি ছক্কায় সাজানো ইনিংসটি বেঙ্গালুরুকে বিশাল স্কোরের দিকে নিয়ে যায়। শেষ দিকে টিম ডেভিডও ১৬ বলে ৩৪ রান যোগ করেন। ফলে নির্ধারিত ২০ ওভারে বেঙ্গালুরু তোলে ২৪০ রান, যা ওয়াংখেড়ে মাঠে আইপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর।
বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মুম্বই শুরুটা মন্দ করেনি। রায়ান রিকেলটন আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাট করছিলেন। কিন্তু রোহিত শর্মা ব্যাট করার সময় হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পান। চিকিৎসার পরও ব্যথা কমেনি, ফলে ১৩ বলে ১৯ রান করে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। এই ধাক্কায় মুম্বইয়ের ছন্দ নষ্ট হয়।
রিকেলটন ২২ বলে ৩৭ রান করে ফিরলে চাপ বাড়ে। তিলক বর্মাও ব্যর্থ হন। এরপর সূর্যকুমার যাদব ও হার্দিক পাণ্ডিয়া লড়াই চালিয়ে যান। দু’জনে দ্রুত রান তুলে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেন। তবে বেঙ্গালুরুর বোলাররা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলে নেয়। সুযশ শর্মা ও রশিখ দার নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন। ক্রুণাল পাণ্ডিয়াও বাউন্সারে ব্যাটারদের চাপে রাখেন।
হার্দিক ২২ বলে ৪০ রান করে আউট হওয়ার পর মুম্বইয়ের আশা প্রায় শেষ হয়ে যায়। শেষদিকে শেরফিন রাদারফোর্ড ঝড় তুলে ৭১ রান করলেও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। মুম্বই থামে ২২২ রানে।
এই হারের ফলে মুম্বইয়ের চিন্তা আরও বাড়ল। চার ম্যাচে মাত্র ২ পয়েন্ট নিয়ে তারা নিচের দিকেই রইল। অন্যদিকে বেঙ্গালুরু ৬ পয়েন্ট নিয়ে উপরের সারিতে জায়গা ধরে রাখল। ম্যাচ শেষে আরও উদ্বেগের বিষয় রোহিতের চোট। পাশাপাশি জশপ্রীত বুমরাহর ফর্ম নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। টানা কয়েক ম্যাচে তিনি উইকেটহীন। অনেকেই মনে করছেন, তাঁকে সঠিক সময়ে ব্যবহার করতে পারছেন না হার্দিক। সব মিলিয়ে মুম্বইয়ের সামনে এখন একাধিক সমস্যা, আর বেঙ্গালুরু পেল আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর বড় আরো একটি বড় ম্যাচ।

