■ বৃষ্টিতেও থামেনি লিগ, সিএবির উন্নত পরিকাঠামোয় স্বস্তি বাংলার ক্রিকেটে
কলকাতা : আইপিএলের ঝাঁ-চকচকে আবহের মাঝেও নীরবে নিজের কাজ করে চলেছে বাংলার ক্রিকেট সংস্থা। প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও স্থানীয় লিগের একাধিক ম্যাচ নির্বিঘ্নে আয়োজন করে ফের নজর কাড়ল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (সিএবি)।
ক্রিকেটমহলের একাংশের মতে, এই সাফল্যের নেপথ্যে বড় ভূমিকা রয়েছে সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পরিকাঠামোগত উন্নয়ন। সোমবার বৃষ্টির জেরে আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্স বনাম পঞ্জাব কিংস ম্যাচ ভেস্তে গেলেও, পরেরদিনই সিএবির তৎপরতায় শহরের একাধিক মাঠ দ্রুত খেলার উপযোগী করে তোলা সম্ভব হয়। যদিও আন্তর্জাতিক মানের ম্যাচে চোটের ঝুঁকি এড়াতে বৃষ্টি থামার পরও খেলা না করার সিদ্ধান্ত নেয় দুই দল, তবুও মাঠ প্রস্তুতির ক্ষেত্রে সিএবির উদ্যোগ ছিল প্রশংসনীয়। আইপিএলের ম্যাচ থাকলেই ম্যাচের আগে ও পরে নিজে মাঠ খতিয়ে দেখেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়—যা প্রশাসনিক তৎপরতারই ইঙ্গিত দেয়।
আইপিএলের চাকচিক্যের মাঝেও সিএবি লিগ কিন্তু অবহেলিত নয়। ছোট মাঠগুলিতেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে উঠে আসছে সিএবি অবজার্ভার কমিটির চেয়ারম্যান শ্রীমন্ত কুমার মল্লিকের নাম। আইপিএলের বাইরে থেকেও তিনি ঘুরে ঘুরে স্থানীয় লিগের খেলা পর্যবেক্ষণ করছেন এবং ক্রিকেটের শিকড়কে মজবুত করার লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর কথায়, বাংলার ক্রিকেটের সাপ্লাই লাইন শক্তিশালী করাই এখন প্রধান লক্ষ্য—গ্রাম থেকে শহর, সর্বত্র প্রতিভা তুলে আনতেই হবে।
বৃষ্টিকে উপেক্ষা করেই ভিডিয়োকন মাঠে পুলিশ এ সি ও ইস্টার্ন রেল স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে রেলিগেশন ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। যার কৃতিত্ব দেওয়াই যায় আম্পায়ারদেরও।
শ্রীমন্ত মল্লিকের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন মাঠের অবজার্ভার সৌমেন কর্মকার, মাঠের কিউরেটর রঞ্জিত সাউ, কমিটির সদস্য তপন আড্ডি, সুদীপ ব্যানার্জী-সহ অন্যান্য কর্তারা। অন্যদিকে যাদবপুর সেকেন্ড ক্যাম্পাসেও খেলা হয়েছে, যদিও ডুমুরজলার ডার্বি বৃষ্টির কারণে পিছিয়ে ১০ এপ্রিল করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, যেখানে অধিকাংশ নজর আইপিএলের দিকে, সেখানে সিএবি প্রমাণ করছে—বাংলার ক্রিকেটের ভিত মজবুত করতে স্থানীয় লিগের উন্নয়নই আসল চাবিকাঠি।

