ভোটের নজরদারিতে প্রযুক্তির কড়া প্রহরা, মুহূর্তে ধরা দেবে নিরাপত্তার ফাঁক-ফোকড় 

#eci

#ceo

#election

#poll

কলকাতা: প্রথম দফার ভোট আর মাত্র হাতেগোনা কয়েকদিন দূরে। তার আগেই নির্বাচন পরিচালনায় নজরদারির নতুন মাত্রা যোগ করল নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে চালু হল আধুনিক সেন্ট্রাল কন্ট্রোল রুম—যেখানে প্রযুক্তি ও মানব নজরের যুগলবন্দিতে ভোট প্রক্রিয়াকে রাখার চেষ্টা হচ্ছে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার আওতায়।

এই কন্ট্রোল রুমে ইতিমধ্যেই বসানো হয়েছে ৭২টি বড় স্ক্রিন। প্রতিটি স্ক্রিনে আলাদা আলাদা এলাকার ফ্লাইং স্কোয়াডের গতিবিধি, বুথ সংলগ্ন পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার খুঁটিনাটি ধরা পড়ছে লাইভ ফিডে। দায়িত্বপ্রাপ্ত এক আধিকারিকের কথায়, “কোথায় কী হচ্ছে, তা আর আলাদা করে জানতে হচ্ছে না—সবই চোখের সামনে স্পষ্ট।”
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই সংখ্যাটা এখানেই থেমে থাকছে না। ভোট শুরুর আগে আরও ১৮টি স্ক্রিন যুক্ত হওয়ার কথা। অর্থাৎ বুথের ভেতর-বাইরের প্রতিটি মুহূর্ত নজরদারির আওতায় আনার প্রস্তুতি প্রায় সম্পূর্ণ।
এবারের ভোটে সবচেয়ে বড় সংযোজন—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। প্রতিটি বুথে বসানো হবে দুটি করে ক্যামেরা। একটি থাকবে বুথের ভিতরে, অন্যটি বাইরে ভোটারদের লাইনের উপর নজর রাখবে। ভেতরের ক্যামেরা সরাসরি ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার বাইরে থেকে দৃশ্য ধারণ করবে—যেখানে পোলিং অফিসার ও এজেন্টদের গতিবিধি ধরা পড়বে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, এই ক্যামেরাগুলির ফিড শুধু দেখা নয়—বিশ্লেষণও করবে এআই। কোনও অস্বাভাবিকতা চোখে পড়লেই তাৎক্ষণিকভাবে সতর্কবার্তা পৌঁছে যাবে সংশ্লিষ্ট অবজারভার, পুলিশ এবং কুইক রেসপন্স টিমের কাছে। এক মাইক্রো অবজারভারের কথায়, “মানুষের চোখ এড়িয়ে গেলেও, মেশিন ভুল করে না—সেটাই এবার বড় ভরসা।”
প্রায় ২০০ জন মাইক্রো অবজারভার ইতিমধ্যেই দায়িত্বে নেমে পড়েছেন। তাঁদের কাজ এই প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাকে সহায়তা করা এবং প্রয়োজনে দ্রুত পদক্ষেপ নিশ্চিত করা।
প্রতিবারের মতো এবারও ভোটকে ঘিরে অশান্তির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে কমিশনের এই কড়া প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থায় অন্তত এটুকু স্পষ্ট—ভোটের মাঠে এবার ‘অদৃশ্য চোখ’ সবসময় খোলা থাকছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

twelve − 5 =