আন্তর্জাতিক বিরতিতে যাওয়ার আগে বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে ড্র এবং মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে হার। বিরতি থেকে ফিরে জামশেদপুর এফসির বিরুদ্ধে ড্র। ৮৮৬ দিন পরেও জামশেদপুরে বাগানের জয় অধরা। শনিবার জামশেদপুরের ঘরের মাঠ জেআরডি টাটা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত ১-১ ফলাফলে ড্র করল সের্জিও লোবেরার দল। ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে গোল হজম করল। বাঙালি ঋত্বিক দাসের গোলে তিন পয়েন্ট হাতছাড়া হল। এই ড্রয়ের পর আইএসএলের পয়েন্ট টেবিলে তিন নম্বরে নেমে গেল মোহনবাগান।
শুধু তাই নয়, এই ড্রয়ের পর মোহনবাগানের এক নম্বরে থাকার স্বপ্নও কিছুটা হোঁচট খেল বলাই যায়। বিকেল পাঁচটায় অত্যধিক তাপমাত্রায় খেলা কঠিন ছিল। তবে দুই দলই শুরু থেকে আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে খেলছিল। ম্যাচের ১৫ মিনিটে লিস্টন কোলাসো দুর্দান্ত গোলে করে এগিয়ে দেন মোহনবাগানকে। অধিনায়ক শুভাশিস বোসের পাস থেকে লিস্টনের ডান পায়ের শট ক্রসবারের নীচে লেগে জালে জড়িয়ে দেয়। জামশেদপুর বক্সে একের পর এক আক্রমণে চাপ বাড়াচ্ছিল মোহনবাগান। তবে একাধিক সহজ সুযোগ মিস করলেন বাগানের আক্রমণভাগ। বিশেষত সবুজ-মেরুনের তারকা ফরোয়ার্ড জেমি ম্যাকলারেন। এরপর বেশ কয়েকবার সুযোগ পেয়ে গিয়েছিল জামশেদপুরও। ৩৫ মিনিটে ২-০ করার সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট মোহনবাগানের। লিস্টনের বুদ্ধিকরে বল বাড়ান রবসনকে। ব্রাজিল তারকা বাঁদিক দিয়ে বক্সে ঢুকে বাঁ-পায়ের শট নেন। ম্যাকলারেন স্লাইড করে পৌঁছে গেলেও ঠিক জায়গায় রাখতে পারলেন না। দ্বিতীয়ার্ধে জামশেদপুর এফসির হয়ে উইং দিয়ে সানান ও ভিন্সি ব্যারেটো শুরু থেকেই আক্রমণ চালিয়ে যান। ম্যাচের ৮৫ মিনিটে ডান দিক দিয়ে বক্সের ভেতরে ঢুকে পড়েন সানান। গোললাইনের একেবারে কাছে গিয়ে ঠান্ডা মাথায় কাটব্যাক পাস বাড়ান রিয়াতার উদ্দেশে। রিয়াতা শট নেন, যা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে (৯০+৫) মিনিটে ঋত্বিক দাসের গোলে সমতায় ফেরে জামশেদপুর। ড্রয়ের পর পয়েন্ট তালিকায় দুইয়ে উঠে এল তারা। অন্যদিকে জামশেদপুরে আবারও আক্রান্ত মোহনবাগান সমর্থকরা। কয়েকজন জামশেদপুর সমর্থক প্রহার করেন মেরিনার্সদের।

