চেন্নাই শিবিরে এখনও যেন অনিশ্চয়তার ছায়া ঘন হয়ে আছে। দলের সবচেয়ে বড় ভরসা মহেন্দ্র সিং ধোনি মাঠে নামেননি, আর সেই প্রভাবটা স্পষ্ট হয়ে উঠছে পারফরম্যান্সে। টানা দ্বিতীয় ম্যাচেও পরাজয়ের মুখ দেখতে হল চেন্নাইকে। বিস্ময়করভাবে, ২০০-র বেশি রান করেও জয় অধরা রয়ে গেল তাদের কাছে। অন্যদিকে পাঞ্জাব দলটি দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে। গুজরাটের পর এবার চেন্নাইয়ের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারিয়ে তারা আত্মবিশ্বাসে টগবগ করছে।
ম্যাচের শুরুতেই টসে জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন পাঞ্জাব অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ার। শুরুটা যদিও চেন্নাইয়ের জন্য খুব একটা মসৃণ ছিল না। দ্রুত উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দল। তবে সেই ধাক্কা সামলে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান ওপেনাররা। পাওয়ার প্লে-র ছয় ওভারে ৫৭ রান তুলে তারা ম্যাচে ফিরে আসে। রুতুরাজ গায়কোয়াড় ও আয়ুষ মাত্রে জুটি বেঁধে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন।
রুতুরাজ ২৮ রান করে আউট হলেও আয়ুষ মাত্রে দুরন্ত ইনিংস খেলেন। মাত্র ৪৩ বলে ৭৩ রান করে তিনি চেন্নাইয়ের ইনিংসকে মজবুত ভিত্তি দেন। তাঁর ব্যাট থেকে আসে একাধিক বাউন্ডারি ও ছক্কা। একবার ক্যাচ মিস হওয়ায় বড় ইনিংস খেলার সুযোগ পান, যা তিনি পুরোপুরি কাজে লাগান। শেষদিকে শিবম দুবের ঝোড়ো ব্যাটিং দলকে আরও এগিয়ে দেয়। তিনি অপরাজিত ৪৫ রান করেন। এছাড়া সরফরাজ খানের ছোট কিন্তু কার্যকর ইনিংসও দলকে ২০০ পেরোতে সাহায্য করে। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে চেন্নাই তোলে ২০৯ রান।
বড় রান তাড়া করতে নেমে পাঞ্জাব শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মনোভাব নেয়। ওপেনার প্রিয়াংশু আর্য ঝড়ের গতিতে রান তুলতে থাকেন। মাত্র ১১ বলে ৩৯ রান করে তিনি দলের রানরেট অনেকটাই বাড়িয়ে দেন। কয়েক ওভারের মধ্যেই স্কোরবোর্ড দ্রুত এগোতে থাকে। প্রভসিমরন সিংও ভালো খেলছিলেন, কিন্তু ভুল বোঝাবুঝির কারণে রান আউট হয়ে ফেরেন।
তবে তাতেও পাঞ্জাবের গতি কমেনি। কুপার কনোলি ও শ্রেয়স আয়ার মিলে ইনিংসকে স্থিরতা দেন। কনোলি ৩৬ রান করে আউট হলেও শ্রেয়স দায়িত্ব নিয়ে খেলেন। অধিনায়কসুলভ ইনিংসে অর্ধশতরান করে দলকে জয়ের খুব কাছে পৌঁছে দেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল কয়েকটি চমৎকার ছক্কা ও বাউন্ডারি।
শেষদিকে কিছু উইকেট পড়লেও ম্যাচ তখন পুরোপুরি পাঞ্জাবের নিয়ন্ত্রণে। নির্ধারিত লক্ষ্য তারা সহজেই ছুঁয়ে ফেলে, তাও হাতে বেশ কিছু বল বাকি রেখেই। এই জয় শুধু পয়েন্ট টেবিলেই নয়, মানসিক দিক থেকেও পাঞ্জাবকে অনেকটা এগিয়ে দিল।
অন্যদিকে চেন্নাইয়ের জন্য চিন্তার ভাঁজ আরও গভীর হল। বড় রান করেও জিততে না পারা, আর ধোনির অনুপস্থিতি—সব মিলিয়ে দলকে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর পথ খুঁজতে হবে। না হলে লিগের শুরুতেই তারা অনেকটা পিছিয়ে পড়তে পারে।

