লিগে টানা দ্বিতীয় হারে চাপে নাইটরা

ইডেন গার্ডেন্সে আবারও হতাশার সন্ধ্যা কাটালো কলকাতা নাইট রাইডার্স। ঘরের মাঠে সমর্থকদের প্রত্যাশা ছিল জয়ের, কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি। বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা যথেষ্ট ইতিবাচক হলেও, মাঝপথে ভেঙে পড়ে পুরো ইনিংস। শেষ পর্যন্ত ২২৭ রানের পাহাড়প্রমাণ লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে মাত্র ১৬১ রানে গুটিয়ে যায় কেকেআর। ফলে টানা দ্বিতীয় পরাজয় মেনে নিতে হয় অজিঙ্ক রাহানেদের দলকে।
ইনিংসের শুরুতে আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা যায় ফিন অ্যালেনকে। প্রথম ওভারেই ২৪ রান তুলে ম্যাচে উত্তেজনা ছড়িয়ে দেন তিনি। অল্প বলেই ২৭ রান করে দলকে ভালো জায়গায় নিয়ে গেলেও, ইনিংস বড় করতে পারেননি কিউয়ি ব্যাটার। তাঁর বিদায়ের পর ছন্দপতন শুরু হয় কলকাতার ব্যাটিংয়ে। অধিনায়ক রাহানে নিজেও ব্যর্থ হন। মাত্র ১০ বলে ৮ রান করে ফিরে যান, যা দলের উপর আরও চাপ বাড়ায়।
এরপর আসে ম্যাচের অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট—ক্যামেরন গ্রিনের রান আউট। ভুল বোঝাবুঝির জেরে অপ্রত্যাশিতভাবে সাজঘরে ফিরতে হয় তাঁকে। এই মুহূর্তটি কেকেআরের ইনিংসে বড় ধাক্কা দেয়। যদিও অঙ্গকৃষ রঘুবংশী লড়াই চালিয়ে যান। আগের ম্যাচের ফর্ম বজায় রেখে দ্রুত অর্ধশতরান পূর্ণ করেন তিনি। কিন্তু তাঁর ইনিংসও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। রিঙ্কু সিংয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের অভাবে রান আউট হয়ে ফিরে যান, যা ম্যাচের গতি পুরোপুরি বদলে দেয়।
দুই গুরুত্বপূর্ণ রান আউট যেন কেকেআরের জয়ের সম্ভাবনাকেই শেষ করে দেয়। মাঝের ওভারগুলোতে প্রয়োজন ছিল ঠাণ্ডা মাথায় খেলার, কিন্তু সেটাই করতে পারেনি দল। অনুকূল রায় শূন্য রানে আউট হয়ে আরও চাপ বাড়ান। অন্যদিকে, রিঙ্কু সিং কিছুটা চেষ্টা করলেও তাঁর ইনিংসে সেই পুরনো ফিনিশিং ছোঁয়া দেখা যায়নি। ২৫ বলে ৩৫ রান করে তিনি আউট হলে ম্যাচ কার্যত হাতছাড়া হয়ে যায়।
শেষদিকে সুনীল নারিন কিছুটা ঝড় তোলার চেষ্টা করেন। পরপর দুটি ছক্কা হাঁকিয়ে আশার আলো জ্বালালেও, তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। দ্রুতই তিনি আউট হয়ে গেলে কেকেআরের ইনিংস পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। একসময় ১২০/৩ থেকে যে দল লড়াইয়ে ছিল, তারা শেষ পর্যন্ত অলআউট হয়ে যায় ১৬১ রানে।
এই পরাজয় শুধু স্কোরলাইনের দিক থেকে নয়, মানসিকভাবেও বড় ধাক্কা কেকেআরের জন্য। বিশেষ করে রান আউটের মতো ভুল এবং মাঝের ওভারে পরিকল্পনার অভাব দলের দুর্বলতা স্পষ্ট করে দিয়েছে। দ্রুত এই ভুলগুলো শুধরে না নিতে পারলে আগামী ম্যাচগুলোতে আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হতে পারে নাইটদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

11 − 10 =