হারের মুখ থেকে প্রত্যাবর্তন, কনোলির হাত ধরে স্বস্তির জয় পাঞ্জাবের

একটা সময় মনে হচ্ছিল ম্যাচটা একেবারে একপেশে হয়ে যাবে। আবার হঠাৎই পাল্টে যাচ্ছিল ছবিটা—যেন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারছিল না, জয়ের হাসি কার মুখে ফুটবে। মঙ্গলবার আইপিএলের উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত স্নায়ুর জোরে বাজিমাত করল পাঞ্জাব কিংস।
মুল্লানপুরের মাঠে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় পাঞ্জাব। শুরু থেকেই বোঝা যাচ্ছিল, এই পিচে রান তোলা খুব সহজ হবে না। অন্যান্য ভেন্যুর মতো এখানে ব্যাটারদের জন্য খুব বেশি সুবিধা ছিল না। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে গুজরাট টাইটান্স শুরুটা খারাপ করেনি, কিন্তু সেই ছন্দ ধরে রাখতে পারেনি তারা। ওপেনার শুভমান গিল কিছুটা দায়িত্ব নিয়ে খেলেন এবং দলের হয়ে সর্বোচ্চ রানও করেন। ২৭ বলে ৩৯ রানের ইনিংসটি ছিল সংযত ও প্রয়োজনীয়। অন্যদিকে জস বাটলারও ৩৮ রানের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন, তবে কেউই বড় ইনিংস গড়ে তুলতে পারেননি।
পিচের আচরণ ধীরে ধীরে বদলাতে থাকে। প্রথম দিকে বল ভালোভাবে ব্যাটে এলেও পরে গতি কমে যায়, ফলে টাইমিং করা কঠিন হয়ে ওঠে। গুজরাটের ব্যাটাররা সেই চ্যালেঞ্জের সঙ্গে পুরোপুরি মানিয়ে নিতে পারেননি। নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট পড়তে থাকায় বড় স্কোর গড়ার সুযোগ হাতছাড়া হয়। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৬২ রানে থামে তাদের ইনিংস।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে পাঞ্জাব শুরুটা বেশ আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতেই করে। যদিও প্রথম উইকেটটা দ্রুত পড়ে যায়, কিন্তু দ্বিতীয় উইকেটের জুটিতে খেলার মোড় ঘুরে যায়। দুই ব্যাটারের মধ্যে গড়ে ওঠা ৭৬ রানের পার্টনারশিপ পাঞ্জাবকে মজবুত ভিত এনে দেয়। ১২ ওভারের কিছু পরে যখন দলের স্কোর ১১০, তখন তৃতীয় উইকেট পড়ে। সেখান থেকেই যেন ম্যাচে নতুন নাটকীয়তা শুরু হয়।
গুজরাটের হয়ে প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ একেবারে আগুন ঝরানো স্পেল করেন। মাত্র দুই ওভারে চার রান দিয়ে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন তিনি। তার এই দুরন্ত বোলিংয়ে মুহূর্তের মধ্যেই ম্যাচে ফিরে আসে গুজরাট। ১১৮ রানের মধ্যেই ছয় উইকেট হারিয়ে ফেলে পাঞ্জাব। তখন মনে হচ্ছিল, জয় যেন গুজরাটের দিকেই হেলে পড়ছে।
কিন্তু ক্রিকেটে শেষ কথা বলে না কেউ। একদিকে যখন উইকেট পড়ার ধারা চলছিল, অন্যদিকে ঠাণ্ডা মাথায় নিজের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছিলেন এক নতুন মুখ—কুপার কনোলি। অজি এই তরুণ ব্যাটার নিজের অভিষেক ম্যাচেই অসাধারণ পরিণতিবোধের পরিচয় দেন। পরিস্থিতি যত কঠিন হয়েছে, ততই ধৈর্য ধরে খেলে গিয়েছেন তিনি।
শেষ দিকে প্রয়োজনীয় রান তোলার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে কনোলি ম্যাচটা পাঞ্জাবের দিকে ঘুরিয়ে দেন। তার ৭২ রানের অনবদ্য ইনিংস দলকে জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়। শেষ পর্যন্ত পাঁচ বল বাকি থাকতেই তিন উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় পাঞ্জাব কিংস।
এই জয় শুধু দুই পয়েন্টের নয়, মানসিক দিক থেকেও ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। টুর্নামেন্টের শুরুতেই এমন কঠিন ম্যাচ জেতা দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেবে। বিশেষ করে কনোলির পারফরম্যান্স পাঞ্জাব শিবিরে বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে। নতুন দলে এসে প্রথম ম্যাচেই তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, বড় মঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করার ক্ষমতা তার রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eleven + two =