রাজা খেললো রাজার মতো।আইপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচেই সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে ছয় উইকেটে হারিয়ে শক্ত বার্তা দিল বেঙ্গালুরু। ২০২ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্যও যে খুব একটা কঠিন নয়, সেটাই প্রমাণ করে দিল বেঙ্গালুরুর ব্যাটিং লাইনআপ।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য হায়দরাবাদের জন্য সুখকর ছিল না। ট্র্যাভিস হেড ও অভিষেক শর্মার মতো আগ্রাসী ওপেনার থাকা সত্ত্বেও দলটি দ্রুত চাপে পড়ে যায়। হেড মাত্র ১১ রান করে ফিরে যান, আর অভিষেকের ইনিংস থামে ৭ রানে। চার নম্বরে নামা নীতীশ কুমার রেড্ডিও ব্যর্থ হন। ফলে মাত্র ২৯ রানে তিন উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় হায়দরাবাদ।
এই কঠিন পরিস্থিতিতে দলকে টেনে তোলার দায়িত্ব নেন অধিনায়ক ঈশান কিষান এবং হেনরিক ক্লাসেন। দু’জনের মধ্যে গড়ে ওঠে গুরুত্বপূর্ণ পার্টনারশিপ। ক্লাসেন ২২ বলে ৩১ রান করে আউট হলেও, তিনি দলের রান বাড়ানোর ভিত গড়ে দেন। তাঁর আউট নিয়ে কিছুটা বিতর্কও তৈরি হয়, কারণ বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ নেওয়ার সময় ফিল সল্টের পা দড়িতে লেগেছিল কি না তা নিয়ে সন্দেহ ছিল। রিপ্লে দেখে শেষ পর্যন্ত আউট দেওয়া হয়।
অন্যদিকে ঈশান কিষান ছিলেন দুরন্ত ফর্মে। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে তিনি বেঙ্গালুরুর বোলারদের চাপে ফেলেন। তাঁর ইনিংসে ছিল একের পর এক বাউন্ডারি ও ছক্কার ঝড়। ৩৮ বলে ৮০ রানের ঝোড়ো ইনিংসে তিনি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। মনে হচ্ছিল, সহজেই শতরান পূর্ণ করবেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত একটি চমৎকার ক্যাচে তাঁর ইনিংসের ইতি ঘটে।
শেষদিকে অনিকেত বর্মার ১৮ বলে ৪৩ রানের দ্রুত ইনিংসে ভর করে হায়দরাবাদ ২০০ রানের গণ্ডি পার করে ২০২ রানে পৌঁছয়। এই স্কোর লড়াই করার মতো হলেও বেঙ্গালুরুর ব্যাটিং শক্তির সামনে তা যথেষ্ট হয়নি।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বেঙ্গালুরু। ফিল সল্ট মাত্র ৮ রান করে আউট হয়ে যান। কিন্তু এরপরই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে আসে বেঙ্গালুরুর হাতে। বিরাট কোহলি ও দেবদত্ত পড়িক্কল মিলে গড়ে তোলেন ম্যাচ জেতানো জুটি।
পড়িক্কল ছিলেন শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে। বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করে দ্রুত রান তুলতে থাকেন তিনি। মাত্র ২৬ বলে ৬১ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে তিনি ম্যাচ প্রায় একতরফা করে দেন। তাঁর ইনিংসে ছিল একাধিক বাউন্ডারি ও বড় শট।
অন্যদিকে বিরাট কোহলি খেলেন দায়িত্বশীল ইনিংস। শুরুতে একটু ধীরস্থির থাকলেও ধীরে ধীরে তিনি নিজের ছন্দ খুঁজে পান। পড়িক্কল আউট হয়ে যাওয়ার পরও তিনি ক্রিজে থেকে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত তাঁর উপস্থিতিই নিশ্চিত করে সহজ জয়।
এই জয়ের মাধ্যমে বেঙ্গালুরু দেখিয়ে দিল, তারা কেন বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই তারা ভারসাম্যপূর্ণ পারফরম্যান্স করেছে। অন্যদিকে হায়দরাবাদকে বুঝতে হবে, শুরুর ধাক্কা সামলে উঠলেও ম্যাচ জেতার জন্য আরও ধারাবাহিকতা প্রয়োজন।
আইপিএলের শুরুতেই এমন এক উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য বাড়তি আনন্দ এনে দিল। আর বেঙ্গালুরুর এই দাপুটে জয় তাদের আত্মবিশ্বাসকে আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিল, যা টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোর জন্য বড় ইতিবাচক দিক।

