■ বিশ্বমানের অ্যাকাডেমি ও আধুনিক পরিকাঠামো গড়তে সক্রিয় সিএবি, সৌরভের নজরে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায়
কলকাতা : ইডেনে আইপিএলের ম্যাচ পায়নি সেভাবে, কিন্তু তা নিয়ে মাথাব্যথা করতে চান না সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। বরং আইপিএলের মাঝেই বাংলার ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়ে যেতে একনিষ্ঠ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়।
আইপিএলের ঝলমলে আবহের মধ্যেও থেমে নেই কাজ-বরং আরও সক্রিয় সিএবি সভাপতি। শুক্রবার অনুষ্ঠিত হল সিএবির অ্যাপেক্স কাউন্সিলের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। সেখানে বিশেষ আমন্ত্রিত হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিএবি অবজারভার কমিটির চেয়ারম্যান শ্রীমন্ত কুমার মল্লিক। বৈঠকে হাজির ছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, প্রণব রায়, সুরজিৎ লাহিড়ি (জ্যাক),সৌমেন্দু চট্টোপাধ্যায়, জয়দীপ মুখার্জি সহ অন্যান্য কর্তারা।
এই বৈঠকের মূল আলোচনায় উঠে আসে হাওড়ার ডুমুরজলায় গড়ে ওঠা ভবিষ্যতের ক্রিকেট কেন্দ্র। প্রায় ৯ একর জমির উপর বিশ্বমানের ‘ক্রিকেট সেন্টার অফ এক্সেলেন্স’ তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে সিএবি। এরমধ্যেই ঠিকাদারি সংস্থার কাছ থেকে নকশা এনে সেই প্রকল্পের বিস্তারিত উপস্থাপন করা হয় অ্যাপেক্স কাউন্সিলের সদস্যদের সামনে। খুঁটিয়ে দেখা হয়েছে প্রতিটি দিক—জিমনেশিয়াম, আধুনিক ড্রেসিংরুম, সুইমিং পুল থেকে শুরু করে ইন্ডোর-আউটডোর প্র্যাকটিসের সমস্ত পরিকাঠামো। সিএবি সূত্রে খবর, খুব দ্রুতই শুরু হতে চলেছে এই প্রকল্পের কাজ। শুধু স্টেডিয়াম নয়, এখানে তৈরি হবে আধুনিক ক্রিকেট অ্যাকাডেমি এবং রিহ্যাব সেন্টারও।
বিভিন্ন বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের জন্যও এই কেন্দ্র ব্যবহার করা হবে। বাংলার ক্রিকেট দীর্ঘদিন ধরেই পরিকাঠামোর অভাব ও সুযোগের সীমাবদ্ধতা নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই সৌরভের এই উদ্যোগকে ভবিষ্যতের দিশা বলেই মনে করছেন ক্রিকেটমহল। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় সভাপতি হওয়ার পর থেকেই বাংলার ক্রিকেটকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন। ডুমুরজলার এই প্রকল্প সেই স্বপ্নপূরণের বড় ধাপ। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ইডেন গার্ডেন্সের সংস্কার এবং নতুন স্টেডিয়াম তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে সিএবির রূপরেখায়। জানা গিয়েছে, ২০২৬ টি-২০ বিশ্বকাপের পর ইডেনের আধুনিকীকরণের কাজ শুরু হতে চলেছে।
সিএবি প্রশাসনের এই উদ্যোগ তাই শুধু একটি প্রকল্প নয়—এ এক দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, যেখানে আগামী দিনের বাংলা ক্রিকেটাররা আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ-সুবিধা পেয়ে নিজেদের আরও প্রস্তুত করে তুলতে পারবেন।
বিতর্ক থাকতেই পারে, প্রশ্ন উঠতেই পারে। কিন্তু তার মধ্যেই কাজ করে যাওয়ার নামই হয়তো সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়-আর সেই কাজই এবার বাংলার ক্রিকেটকে নতুন পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

