■ তিন বছরের লড়াই শেষে সম্পূর্ণ সুস্থ ৬৭ বছরের মহিলা
কলকাতা : একই সঙ্গে স্তন ও ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েও অবিশ্বাস্যভাবে সুস্থ হয়ে উঠলেন ৬৭ বছরের এক মহিলা। সরোজ গুপ্ত ক্যান্সার সেন্টার অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে দীর্ঘ তিন বছরের চিকিৎসা ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পর বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্থিতিশীল। এই সাফল্য ক্যান্সার চিকিৎসায় নতুন আশার বার্তা দিচ্ছে। ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ও উচ্চ কোলেস্টেরলের মতো একাধিক শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন ওই মহিলা।
২০২১ সালের নভেম্বর মাসে ডান স্তনে গাঁট ও পেটে অস্বাভাবিক ফোলাভাব নিয়ে চিকিৎসকের দ্বারস্থ হন তিনি। পরীক্ষায় ধরা পড়ে ট্রিপল নেগেটিভ ব্রেস্ট ক্যান্সার।পাশাপাশি ডিম্বাশয়েও ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়েছে। দুটি ক্যান্সার একসঙ্গে ধরা পড়ায় চিকিৎসকরা জেনেটিক কারণের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখেন। প্রথমে কেমোথেরাপির মাধ্যমে টিউমার ছোট করা হয়। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে বড় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দুই স্তনই অপসারণ করা হয়।অস্ত্রোপচারের পর রিপোর্টে ব্রেস্ট ক্যান্সারে সম্পূর্ণ সাড়া মেলে।এরপর ডিম্বাশয় ও আক্রান্ত টিস্যু অপসারণের জন্য দ্বিতীয় বড় অস্ত্রোপচার করা হয়। সরোজ গুপ্ত ক্যান্সার সেন্টারের চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো নির্ণয়, সঠিক চিকিৎসা এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ থাকলে উন্নত পর্যায়ের ক্যান্সার থেকেও সুস্থ হওয়া সম্ভব।
এই প্রসঙ্গে সংস্থার অঞ্জন গুপ্ত বলেন, এই অসাধারণ সুস্থতা আমাদের ক্যান্সার চিকিৎসা ব্যবস্থার শক্তি এবং রোগীর মানসিক দৃঢ়তার প্রতিফলন।সময়মতো হস্তক্ষেপ ও বহুমুখী চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে জটিল ক্যান্সার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ফল সম্ভব।’ অন্যদিকে, ডা. অর্ণব গুপ্ত জানান, ‘বিআরসিএ২জিনের মিউটেশন চিহ্নিত হওয়ায় লক্ষ্যভিত্তিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়েছে, যা রোগীর ফলাফলকে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করেছে। সুসংগঠিত চিকিৎসা পরিকল্পনা ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি আরোগ্য সম্ভব হয়েছে।’ এই লড়াই শুধু এক রোগীর জয় নয়, বরং ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এক শক্তিশালী আশার বার্তা-সঠিক চিকিৎসা ও মানসিক দৃঢ়তা থাকলে জয় সম্ভব।

