”আয় ভোটার ভোট দিয়ে যা”

#eci

#vote

#election

 

”আয় ভোটার ভোট দিয়ে যা”

 

‘ভোটের ডাক গঙ্গার হাওয়ায়, হাওড়া জুড়ে উৎসবের রং’

কলকাতা : শুক্রবার সকালটা যেন অন্য রকম ছিল হাওড়ার। ব্যস্ত শহর হঠাৎই ছন্দ বদলেছে—লোহার সেতুর নীচে, গঙ্গার হাওয়ায়, সাইকেলের চাকার ঘূর্ণনে মিশে গেল এক অদৃশ্য আহ্বান—“ভোট দিন”। কেবল প্রশাসনিক কর্মসূচি নয়, এ যেন এক চলমান গল্প, যেখানে নাগরিক দায়িত্ব ধরা দিল উৎসবের রঙে।

জাতীয় নির্বাচন কমিশন-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সকাল ৭টা থেকেই জমে ওঠে পরিবেশ। হাওড়া ব্রিজ চেকপোস্ট থেকে শুরু হওয়া সাইকেল যাত্রা শহরের রাস্তায় রাস্তায় ছড়িয়ে দেয় এক অনন্য আবহ। তরুণদের উচ্ছ্বাস, প্রথমবারের ভোটারদের চোখে নতুন দায়িত্বের দীপ্তি—সব মিলিয়ে যেন গণতন্ত্রের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।

র‍্যালি এগিয়েছে, আর তার সঙ্গে এগিয়েছে বার্তা—কেউ প্ল্যাকার্ডে লিখেছে অধিকার প্রয়োগের কথা, কেউ বা গলায় তুলেছে সচেতনতার সুর। পথের ধারে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ থমকে শুনেছেন, কেউ হাততালি দিয়েছেন, আবার কেউ নিজের অজান্তেই মিশে গিয়েছেন মিছিলে।

সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো দৃশ্য—ছোটা ভীম আর চুটকি। শিশুদের পরিচিত সেই দুই মুখ যেন হঠাৎই হয়ে উঠল গণতন্ত্রের দূত। তাদের উপস্থিতিতে ভিড়ের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এক সহজ, হাসিখুশি বার্তা—ভোট মানে ভয় নয়, উৎসব। আয়োজকদের কথায়, “ভোটকে আনন্দের সঙ্গে যুক্ত করতেই এই উদ্যোগ।”

রামকৃষ্ণপুর ফেরিঘাটে পৌঁছে কর্মসূচি যেন আরও এক ধাপে উঠে যায়। লোকসংগীত, নৃত্য, নাটকের মধ্যে দিয়ে উঠে আসে বাংলার চিরন্তন সংস্কৃতি—যেখানে ভোট কেবল প্রক্রিয়া নয়, সামাজিক চেতনার অংশ। এক কর্মকর্তা জানান, “নতুন ভোটারদের কাছে পৌঁছনোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই এই ধরনের উপস্থাপনা।”

শুধু স্থলপথে নয়, গঙ্গার বুকেও ছড়িয়েছে এই বার্তা—সচেতনতা ফেরির মাধ্যমে। শহরের বুকে এমন দৃশ্য যেন মনে করিয়ে দেয়, গণতন্ত্র কেবল ভোটকেন্দ্রে সীমাবদ্ধ নয়, এটি মানুষের জীবনের অংশ।

কমিশনের বক্তব্য স্পষ্ট—“ভয়মুক্ত, প্রলোভনমুক্ত অংশগ্রহণই আমাদের লক্ষ্য।” আর সেই লক্ষ্য পূরণে বাংলার নিজস্ব সংস্কৃতি—পটচিত্র, বাউল, যাত্রা—সবকিছুকেই হাতিয়ার করা হচ্ছে।

হাওড়ার এই সকাল তাই কেবল একটি কর্মসূচির স্মৃতি নয়, বরং এক অনুভব—যেখানে ভোট মানে দায়িত্ব, আবার একই সঙ্গে উৎসবও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

11 − seven =