আইপিএল ২০২৬ মরশুমের প্রথম ম্যাচেই মুখোমুখি হতে চলেছে গতবারের চ্যাম্পিয়ন বেঙ্গালুরু এবং হায়দরাবাদ। শনিবার বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে এই ম্যাচ ঘিরে ইতিমধ্যেই তুঙ্গে উত্তেজনা। তবে সমর্থকদের চোখ থাকবে আকাশের দিকেও, কারণ আবহাওয়ার পূর্বাভাস খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। প্রায় এক বছর পর এই মাঠে বড় ক্রিকেট ম্যাচ ফিরছে। গত বছরের জুন মাসে ভয়াবহ পদদলিত হওয়ার ঘটনায় ১১ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার পর দীর্ঘদিন এই মাঠে বড় আয়োজন বন্ধ ছিল। ফলে এই ম্যাচ শুধুমাত্র মরশুমের সূচনা নয়, বরং আবেগের দিক থেকেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
গতবার প্রথমবারের মতো শিরোপা জয়ের পর এই প্রথম মাঠে নামবে বেঙ্গালুরু দল। স্বাভাবিকভাবেই নিজেদের প্রিয় দলের খেলা দেখার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন সমর্থকেরা। তবে আগের অভিজ্ঞতা কিছুটা দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত মরশুমে এই একই মাঠে কলকাতার বিরুদ্ধে বেঙ্গালুরুর ম্যাচ বৃষ্টির কারণে সম্পূর্ণ বাতিল হয়ে গিয়েছিল। ফলে এবারও বৃষ্টি বাধা হয়ে দাঁড়াবে কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার বেঙ্গালুরুর আকাশ আংশিক মেঘলা থাকবে। সন্ধ্যার দিকে তাপমাত্রা প্রায় ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকতে পারে। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ থাকবে প্রায় ৬৭ শতাংশ। আকাশে মেঘের পরিমাণ প্রায় ৫৩ শতাংশ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টির সম্ভাবনা খুব বেশি না হলেও প্রায় ৬ শতাংশ ঝুঁকি থাকছে, যা ম্যাচে প্রভাব ফেলতে পারে।
নিয়ম অনুযায়ী, দুই দল অন্তত পাঁচ ওভার করে ব্যাটিং করতে না পারলে ম্যাচ বাতিল ঘোষণা করা হবে। সে ক্ষেত্রে দুই দলই একটি করে পয়েন্ট পাবে। ফলে আবহাওয়ার পরিস্থিতি ম্যাচের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
দুই দলের অতীত পরিসংখ্যান বলছে, এই লড়াই সবসময়ই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। এখন পর্যন্ত ২৫ বার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। তার মধ্যে বেঙ্গালুরু জিতেছে ১১টি ম্যাচ, আর হায়দরাবাদ জিতেছে ১৩টি ম্যাচ। একটি ম্যাচ বৃষ্টির কারণে বাতিল হয়েছিল।
গত মরশুমে দুই দলের শেষ সাক্ষাতে হায়দরাবাদ দাপট দেখিয়ে জয় ছিনিয়ে নেয়। সেই ম্যাচে হায়দরাবাদের এক ব্যাটার অপরাজিত ৯৪ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন, যার জোরে দল তোলে ২৩১ রান। জবাবে বেঙ্গালুরু ১৮৯ রানে অলআউট হয়ে যায়।
সব মিলিয়ে, মরশুমের প্রথম ম্যাচে উত্তেজনা, প্রত্যাশা এবং আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা—সবকিছু মিলিয়ে এক জমজমাট লড়াইয়ের অপেক্ষায় ক্রিকেটপ্রেমীরা। এখন দেখার, বৃষ্টি না খেলা—শেষ হাসি কে হাসে।

