সোমবারের ব্যস্ত দিনে যুবভারতীতে ডার্বি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ইস্টবেঙ্গল এফসি ও মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। একপেশে ম্যাচে ৭০ গোলে মহামেডানকে হারাল অস্কারের ইস্টবেঙ্গল। আনোয়ার আলি ও ইউসেফ এজ্জেজ্জারির জোড়া গোল, একটি করে গোল করেন সউল ক্রেস্পো ও পিভি বিষ্ণু। লিগ টেবিলে সাদা কালো ব্রিগেডের অবস্থান দেখলে এই ফলাফলই প্রত্যাশিত ছিল। তবে শেষ কয়েকটি ম্যাচে মেহরাজুদ্দিন ওয়াডুর ছেলেরা লড়াই দেখিয়েছিল। ইস্টবেঙ্গলের তৎকালীন পয়েন্ট হারানো দেখে আশা জেগেছিল মহামেডান সমর্থকদের মনেও। তবে সেই আশায় জল ঢেলে দিলেন মহামেডান ফুটবলাররা। ম্যাচে তিনটি পেনাল্টি পেল ইস্টবেঙ্গল।
গত কয়েকদিনের অনুশীলন দেখে মনে হয়েছিল জোড়া স্ট্রাইকারে নামবেন অস্কার। তবে গত ম্যাচের একাদশ অপরিবর্তিত রেখেছিলেন লাল-হলুদ কোচ। ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকেই আক্রমণে ওঠে ইস্টবেঙ্গল। ইউসেফ, এডমুন্ডরা বক্সের ভিতর জটলার মাঝে শট নেওয়ার চেষ্টা করেন, কোনওক্রমে বাঁচিয়ে দেন মহামেডানের ডিফেন্ডাররা। ১ মিনিটে অফসাইডের পতাকা তুলেও রেফারি কর্নারের নির্দেশ দেন। যদিও ইউসেফের শট বাঁচিয়ে দিলেন মহামেডান স্পোর্টিং গোলকিপার পদম ছেত্রী। ৬ মিনিটেই এগিয়ে গেল ইস্টবেঙ্গল। আনোয়ার আলির শট তেমন জোড়ালো ছিল না, তবে পদম ছেত্রীর ভুলে বল জালে জড়িয়ে গেল। ৯ মিনিটে মিগুয়েলের কর্নার থেকে আনোয়ারের হেড পদম ছেত্রী বাঁচিয়ে দেন।
১৩ মিনিটেই বড় ভুল করে বসলেন মহামেডানের ডিফেন্ডার সাজ্জাদ হোসেন পেয়ারে। বক্সের ভিতর মিগুয়েলকে ফাউল করলেন, সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির নির্দেশ দেন রেফারি। পেনাল্টি থেকে গোল করেন ইউসেফ। এরপর মুহুর্মুহু আক্রমণ চালিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। জিকসনের থ্রু পেয়ে বাঁদিক থেকে পিভি বিষ্ণু বল নিয়ে এগিয়ে সুন্দর পাস দিলেন ইউসেফকে। মাঠের বাইরে শট নিলেন ইউসেফ। ২৪ মিনিটে সলের কর্নার থেকে বল পেয়ে আবারও আনোয়ার হেডের চেষ্টা করেন। সেখান থেকে বল পেয়ে ইউসেফ শট নেন। তবে পোস্টের উপর দিয়ে বল মাঠের বাইরে চলে যায়। ২৯ মিনিটে ফারদিন আলি মোল্লাকে ফাউল করেন মিগুয়েল। ফ্রি-কিক থেকে ফারদিন শট নিলেও বল চলে গেল গিলের হাতে। ৩৭ মিনিটে জোসেফ ফাউল করেন ইস্টবেঙ্গল উইঙ্গার এডমুন্ডকে, লাল কার্ড দেখা। (দ্বিতীয় হলুদ) রেফারি। ৩৩ মিনিটে মিগুয়েলকে ফাউল করে জোসেফ প্রথম হলুদ কার্ড দেখেছিলেন। ১০ জনে খেলে আরও বেসামাল মহামেডান। সল ক্রেস্পোর পেনাল্টিতে ৩-০ গোলে এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। জোসেফ বাইরে যাওয়ায়, টাংভা রঘুইয়ের জায়গায় ডিফেন্সের জোড় বাড়াতে জুয়েল আহমেদ মজুমদারকে নামান কোচ মেহরাজ। দ্বিতীয়ার্ধে এডমুন্ডের জায়গায় নাওরেম মহেশকে নামান অস্কার। ৫৫ মিনিটে গোলকিপার পদম ছেত্রী বক্সের ভিতর এগিয়ে এসে মিগুয়েলকে ফাউল করলে রেফারির আবারও পেনাল্টির নির্দেশ। পেনাল্টি থেকে ইউসেফ এজ্জেজ্জারি গোলে ৪-০ এগিয়ে গেল মশাল বাহিনী। হীরা মন্ডলের চোট থাকায় ৭০ মিনিটে নামলেন তিনি। শেষের দিকে মহেশকে বসিয়ে নন্ধকুমারকে নামান অস্কার। স্ক্রেপোকে তুলে সৌভিক চক্রবর্তী, ইউসেফের জায়গায় ডেভিড লালহানসাঙ্গা নামেন। ৬৬ মিনিটে মহেশের জোড়ালো শট গোলকিপার পদম ছেত্রী বাঁচিয়ে দেন। খানিক পরেই মহীতোষের ফ্রি কিক থেকে জুয়েলের হেড। গোল করার ভালো সুযোগ ছিল মহামেডানের। বক্সে আবারও আক্রমণের ঝড় তুলছে ইস্টবেঙ্গল। ৫-০ হল না একটুর জন্য। আনোয়ারের ক্রস থেকে ডেভিড লালহানসাঙ্গার শট পোস্টের গা ঘেঁষে বাইরে চলে গেল। ৭৫ মিনিটে বিষ্ণুর গোলে ৫-০ এগিয়ে গেল ইস্টবেঙ্গল। মিগুয়েলের জায়গায় অ্যান্টনকে নামিয়ে দেখে নিলেন অস্কার। এরপর মহেশের কর্নার থেকে জিকসন, সেখান থেকে আনোয়ারের শটে গোল। ৬-০ করল ইস্টবেঙ্গল। অতিরিক্ত সময়ে নন্ধকুমারের গোলে মহামেডানের বিরুদ্ধে ৭-০ গোলে জয়ী ইস্টবেঙ্গল।

