কলকাতা : কলকাতা হাইকোর্টের একক বেঞ্চ সোমবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি এফআইআর মামলায় বড়সড় স্বস্তি দিয়েছে। আদালত তাঁকে পুলিশের যে কোনও প্রকার পদক্ষেপ থেকে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা প্রদান করেছে। বিচারপতি অজয় কুমার মুখোপাধ্যায়ের একক বেঞ্চ ১২ সপ্তাহের জন্য এই অন্তর্বর্তী স্বস্তি প্রদান করেছে এবং নির্দেশ দিয়েছে, পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি-সহ কোনও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারবে না। মামলার পরবর্তী শুনানি জুলাই মাসে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, শুভেন্দু অধিকারী এবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দীগ্রাম বিধানসভা আসন থেকে নির্বাচন লড়ছেন, যেখানে তিনি বর্তমানে বিধায়ক। এর পাশাপাশি তিনি দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যেখানে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২০ সালের ২৯ ডিসেম্বর খড়দহ থানায় তাঁর বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে একটি এফআইআর দায়ের করেছিল। নির্বাচনের আগে সম্ভাব্য আইনি জটিলতা এড়াতে তিনি এই অভিযোগ বাতিলের দাবি জানিয়ে হাইকোর্টের হয়েছিলেন। একই মামলায় আদালত শুভেন্দু অধিকারীর ছোট ভাই তথা প্রাক্তন লোকসভা সাংসদ দিব্যেন্দু অধিকারীকেও স্বস্তি দিয়েছে।
দিব্যেন্দু অধিকারী আদালতে আবেদন করে অভিযোগ জানিয়েছিলেন, সরকারি আবাসন খালি করে দেওয়ার পরেও তাঁকে ‘নো ডিউজ সার্টিফিকেট’ (বকেয়া নেই সংক্রান্ত শংসাপত্র) দেওয়া হয়নি। দিব্যেন্দু অধিকারী পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এগরা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রার্থী। প্রার্থী তালিকা প্রকাশের আগেই তিনি এই শংসাপত্রের জন্য আবেদন করেছিলেন, কিন্তু সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে তা না মেলায় ১০ মার্চ তিনি উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হন।
সোমবার শুনানির সময় বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের একক বেঞ্চে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল দিব্যেন্দু অধিকারীর আইনজীবীর হাতে ‘নো ডিউজ সার্টিফিকেট’-এর একটি প্রতিলিপি তুলে দেন। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়েছে, গত ১৯ মার্চ এই শংসাপত্র জারি করা হয়েছে এবং প্রার্থীর কাছে পৌঁছাতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

