স্বস্তির হাওয়া নাইট শিবিরে  ফিরছেন নারিন, ফিট হচ্ছেন পাথিরানা

আইপিএল শুরুর আগে স্বস্তির হাওয়া বইতে শুরু করেছে কলকাতা নাইট রাইডার্স শিবিরে। একদিকে যেমন বিদেশি ক্রিকেটারদের যোগদান নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা প্রায় মিটে গিয়েছে, অন্যদিকে তেমনই চোট সারিয়ে দ্রুত ছন্দে ফিরছেন শ্রীলঙ্কার তরুণ পেসার মাথিশা পাথিরানা। এই দুই খবরে অনেকটাই চাপমুক্ত দলের কোচিং স্টাফ ও ম্যানেজমেন্ট।
সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার জায়গা ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটারদের নিয়ে। তবে এখন জানা যাচ্ছে, সুনীল নারিন ২৩ মার্চ কলকাতায় পৌঁছবেন। তার পরের দিন, অর্থাৎ ২৪ মার্চ শহরে আসবেন রভম্যান পাওয়েল এবং আন্দ্রে রাসেল। ফলে প্রথম ম্যাচে তাঁদের পাওয়া নিয়ে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল, তা কার্যত দূর হয়ে গিয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে কিছুটা জটিলতা তৈরি হলেও, এখন আর বড় কোনও বাধা নেই বলেই মনে করা হচ্ছে।
পেস আক্রমণ নিয়েও ইতিবাচক খবর পেয়েছে দল। মাথিশা পাথিরানা ধীরে ধীরে ফিট হয়ে উঠছেন। ইতিমধ্যেই তাঁর শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে এবং অনুশীলনে বল করতেও দেখা গিয়েছে তাঁকে। সব কিছু পরিকল্পনা মতো এগোলে, ইডেনে নিজেদের প্রথম ম্যাচ থেকেই তাঁকে মাঠে নামানো হতে পারে। এতে করে পেস বিভাগ নিয়ে যে চাপ ছিল, তা অনেকটাই কমে এসেছে।
তবে হর্ষিত রানার পরিস্থিতি এখনও স্পষ্ট নয়। তিনি কবে পুরোপুরি ম্যাচ ফিট হবেন, তা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবুও তাড়াহুড়ো করে কোনও বিকল্প ঘোষণা করতে চাইছে না টিম ম্যানেজমেন্ট। যদিও ব্যাকআপ হিসেবে কয়েকজন পেসারকে নজরে রাখা হয়েছে এবং তাঁদের ট্রায়ালও চলছে। সিমারজিৎ সিং ও নভদীপ সিংয়ের মতো ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আরও কিছুদিন পর্যবেক্ষণের পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
দলের কম্বিনেশন ঠিক করতে এখন জোরকদমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। অনুশীলনে অঙ্গকৃশ রঘুবংশীকে নিয়মিত উইকেটকিপিং করতে দেখা যাচ্ছে। সাধারণত ফিন অ্যালেন ও টিম শেফার্ট এই দায়িত্ব পালন করেন। তবে প্রয়োজনে একজন ভারতীয় উইকেটরক্ষককে দলে রাখার পরিকল্পনা থাকায় রঘুবংশীকে প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। তাঁর ঘরোয়া ক্রিকেটে এই ভূমিকার অভিজ্ঞতা থাকায় কোচিং স্টাফ আশাবাদী।
ইতিমধ্যেই দলের বেশ কয়েকজন বিদেশি ক্রিকেটার কলকাতায় পৌঁছে গিয়েছেন। ফিন অ্যালেন ও টিম শেফার্ট অনুশীলন শুরু করে দিয়েছেন। বরুণ চক্রবর্তীও দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। ক্যামেরন গ্রিনেরও শীঘ্রই শিবিরে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। সময় কম থাকলেও দ্রুত পুরো দলকে একত্রিত করে প্রস্তুতি চূড়ান্ত করতে চাইছে নাইট শিবির।
এবারের মরসুমে একটি আলাদা দিকও চোখে পড়ছে। আন্দ্রে রাসেলকে শুধু ক্রিকেটার হিসেবেই নয়, অতিরিক্ত দায়িত্বেও দেখা যাবে। তাঁকে ‘পাওয়ার’ কোচ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বড় শট খেলার কৌশল, শক্তির সঠিক ব্যবহার এবং ফিটনেস সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তিনি তরুণ ক্রিকেটারদের সঙ্গে কাজ করবেন। বিশেষ করে রিঙ্কু সিং ও রামনদীপ সিংদের মতো খেলোয়াড়দের গড়ে তুলতে তাঁর অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
সব মিলিয়ে, গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারদের সময়মতো পাওয়া এবং চোট সমস্যা কাটিয়ে ওঠা—এই দুই ইতিবাচক দিক কলকাতা নাইট রাইডার্সকে নতুন করে আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে। এখন লক্ষ্য একটাই, এই প্রস্তুতিকে মাঠের পারফরম্যান্সে রূপ দেওয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

five × 2 =