ঘরের মাঠ যুবভারতীতে মুম্বই সিটি এফসির কাছে পরাজিত মোহনবাগান সুপারজায়ান্ট। মুম্বই মানেই শক্ত গাঁট মোহনবাগানের, এই ধারা বদলাতে পারলেন না প্রাক্তন মুম্বই সিটি এফসি কোচ সের্জিও লোবেরাও। এই ম্যাচের আগে বাগান কোচ সের্জিও লোবেরা বারবার মনে করিয়ে দিয়েছিলেন, তিন পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে থাকাই লক্ষ্য তাদের। তবে শুক্রবারের যুবভারতীতে প্রায় ২৭ হাজার সবুজ-মেরুন সমর্থককে চুপ করিয়ে দিল আইসল্যান্ডরা। নওফলের গোলে ১-০ গোলে মোহনবাগানকে হারাল মুম্বই সিটি এফসি। গোল করে স্টেইন গান সেলিব্রেশন করে গ্যালারিকে চুপ করিয়ে দিলেন তিনি। প্রাক ম্যাচ সাংবাদিক সম্মেলনে মুম্বই কোচ পিটার ক্র্যাটকি বলেছিলেন, মোহনবাগানকে হারানো কঠিন তবে অসম্ভব নয়। সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করে দেখাল তার দল।
মোহনবাগান-মুম্বই ম্যাচ মানেই ডার্বির মতো উত্তেজনা। ম্যাচের শুরু থেকেই নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছিল ছাংতে, পেরেরা দিয়াজরা। শেষ ম্যাচে বেঙ্গালুরু এফসির বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করেছিল মোহনবাগান। তবে সেই লড়াইয়েই ঝাঁঝ দেখা গেল না দিমি-কামিন্সদের থেকে। সেই ম্যাচে পয়েন্ট হাতছাড়া হওয়ার আক্ষেপটা ভুলতে পারেনি সবুজ-মেরুন সমর্থকরা। আবারও বড় ধাক্কা। ম্যাচের একেবারে শুরুতে অনিরুদ্ধে থাপাকে মাঝমাঠে অকারণে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখলেন মুম্বইয়ের পেরেরা দিয়াজ। প্রথম দশ মিনিটেই বেশ কয়েকটি মিস পাস করে মোহনবাগান। ১৩ মিনিটে লিস্টন কোলাসো আবারও বাঁ-দিক থেকে ভেতরে ঢুকে পড়েন। তিনি থাপাকে পাস বাড়ান। থাপা বল পেলেও মুম্বই ডিফেন্স ক্লিয়ার করে দেয়। ১৮ মিনিটে জেসন কামিন্স বক্সের ঠিক বাইরে একটি বল পেয়ে ডান পায়ে শট নেন। বল সাইড নেটে লেগে বাইরে চলে যায়। ২৬ মিনিটে দুরন্ত গোল মুম্বইয়ের। দিয়াজ পাস খেলেন ছাংতের সঙ্গে, সেখান থেকে বল যায় কাউকোর কাছে। কাউকো বাঁ-দিকে থাকা নওফলকে পাস দেন। শট নিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন নওফল, বিশাল কাইথের কিছু করার ছিল না। ৩৯ মিনিটে দিমি বক্সে দারুণ একটি ক্রস বাড়ান। কামিন্স শট নিলেও মুম্বইয়ের গোলকিপার বল ধরে ফেলেন। ৪৪ মিনিটে ২-০ হওয়া থেকে বাঁচালেন বিশাল কাইথ। অসাধারণ সেভ করলেন। প্রথমে ছাংতের শট, ফিরতি বলে অরটিজ ফের শট নিলেও, সেটাও বাঁচিয়ে দেন বিশাল। ৬৩ মিনিটে দিমিত্রি গোল করলেও, তা বাতিল করেন রেফারি। তিনি অফসাইডে ছিলেন ৮৯ মিনিটে মোহনবাগান কোচ লোবেরা পরিবর্তন হিসেবে মনবীর সিংকে মাঠে আসেন, মেহতাব হোসেন মাঠ ছাড়েন। ৯৭ মিনিটে আলবার্তোকে বক্সের ঠিক বাইরে ফেলে দেন মুম্বই ডিফেন্ডাররা। ভালো জায়গায় ফ্রি-কিক পেয়েও সমতায় ফিরতে ব্যর্থ মোহনবাগান। দিমির শট বারের উপর দিয়ে বেরিয়ে যায়।

