#commissioner change
#ECI
#WBelection
কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে প্রশাসনিক প্রস্তুতিতে আরও এক ধাপ এগোল নির্বাচন কমিশন। ভোটের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে রাজ্য পুলিশের শীর্ষ স্তরে বড়সড় রদবদলের নির্দেশ দিল কমিশন। সোমবার জারি করা নির্দেশে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন আইপিএস আধিকারিকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের দায়িত্ব গ্রহণের রিপোর্ট সোমবার দুপুর ৩টার মধ্যে পাঠাতে হবে।
নির্বাচন কমিশনের সচিব সুজিত কুমার মিশ্র স্বাক্ষরিত চিঠিতে জানানো হয়েছে, ১৯৯২ ব্যাচের আইপিএস আধিকারিক সিদ্ধনাথ গুপ্তাকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল ও ইন্সপেক্টর জেনারেল (ইন-চার্জ) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ১৯৯১ ব্যাচের আইপিএস আধিকারিক নটরাজন রমেশ বাবুকে রাজ্যের সংশোধনাগার পরিষেবার ডিরেক্টর জেনারেল হিসেবে নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ১৯৯৫ ব্যাচের আইপিএস আধিকারিক অজয় মুকুন্দ রানাডেকে আইন-শৃঙ্খলা বিভাগের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (এডিজি ও আইজিপি, ল অ্যান্ড অর্ডার) পদে দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কলকাতা পুলিশের নেতৃত্বেও পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। নির্দেশ অনুযায়ী, ১৯৯৬ ব্যাচের আইপিএস আধিকারিক অজয় কুমার নন্দকে কলকাতা পুলিশের নতুন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নিতে বলা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, যাঁদের বর্তমান পদ থেকে সরানো হচ্ছে, তাঁদের ভোট প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কোনও পদে নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুনর্বহাল করা যাবে না। প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে কমিশনের তরফে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ভোট ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যে প্রশাসনিক স্তরে ধারাবাহিক বদলির নির্দেশ দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। গতকালই রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিবের দায়িত্বে পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল কমিশনের তরফে। সেই সিদ্ধান্ত ঘিরে প্রশাসনিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়। কমিশনের বক্তব্য, নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা এবং প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে বলা হয়েছে, “কমিশনের নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে এবং দায়িত্ব গ্রহণের রিপোর্ট নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পাঠাতে হবে।” একই সঙ্গে স্পষ্ট করা হয়েছে, ভোট প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এই বদলির নির্দেশ কার্যকর থাকবে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের আগে প্রশাসনের শীর্ষস্তরে এই ধারাবাহিক রদবদল স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—ভোট পরিচালনায় কোনওরকম বিতর্ক বা পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এড়াতে কড়া অবস্থান নিতে চাইছে নির্বাচন কমিশন। সেই কারণেই ভোট ঘোষণার পরপরই প্রশাসনিক কাঠামোয় একের পর এক পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

