ইস্টবেঙ্গলে ক্লাব বনাম অস্কার, কোচের অভিযোগের পাল্টা দিলেন দেবব্রত সরকার 

শনিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে কেরালা ব্লাস্টার্স এফসির মুখোমুখি হবে ইস্টবেঙ্গল। লিগ টেবিলে পয়েন্টের খাতা খুলতে না পারা কেরালার বিরুদ্ধে জয়ে ফিরতে মরিয়া ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুঁজো। প্রাক ম্যাচ সাংবাদিক সম্মেলনে এসে তেমনটাই জানালে কোভ অস্কার ব্রুঁজো। দলে চোট আঘাত সমস্যা কাটিয়ে সমর্থকদের জন্য ঘরের মাঠে তিন পয়েন্ট তুলতে মরিয়া লাল-হলুদ ব্রিগেড। কেভিন সিবিল্লের ম্যাচ ফিট হতে সময় লাগলেও সুস্থ হয়েছেন মাঝমাঠের ভরসা সউল ক্রেস্পো।
প্রাক ম্যাচ সাংবাদিক সম্মেলনে এসে কোচ অস্কার বলেন, “দুই দিন আগে যে শেষ মেডিক্যাল রিপোর্ট আমরা পেয়েছি, তাতে দেখা গিয়েচে কেভিনের চোটটা অনেকটাই সেরে উঠছে। অবস্থা আগের থেকে অনেক ভাল, তবে পেশির যে টান রয়েছে তা পুরোপুরি সেরে উঠতে এখনও প্রায় পাঁচ থেকে সাত দিন লাগবে। তারপর ওকে আবার রিহ্যাব শুরু করতে হবে। তাই ফিফা আন্তর্জাতিক বিরতির আগে কেভিনকে পাওয়ার আশা করবেন না। তবে আইএসএলের শেষ সাতটি ম্যাচে সে দলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হয়ে উঠবে।”
পাশাপাশি অস্কার যোগ করেছেন, “যেখানে আমরা এখন আছি। এর বাইরে যা বলা হচ্ছে সেগুলো অনেকটা স্বপ্ন বা গল্প-হয়ত ইচ্ছাকৃতভাবে দলকে বিভক্ত করা বা অস্থির করার চেষ্টা। কিন্তু দলের ভেতরে আমরা সেগুলোকে কোনও গুরুত্ব দিচ্ছি না। গত বছর আমি এখানে চতুর্থ ম্যাচের সময় এসেছিলাম, এবং প্রথম পয়েন্ট পেতে আমাদের ছয়টি ম্যাচ লেগেছিল। কিন্তু এই বছর চার ম্যাচে আমাদের সাত পয়েন্ট রয়েছে। আইএসএল ইতিহাসে এটা ইস্টবেঙ্গলের সেরা শুরু। আগামীকাল পাঁচ ম্যাচে ১০ পয়েন্টে পৌঁছানোর সুযোগ আছে, যার মানে হবে প্রতি ম্যাচে গড়ে দুই পয়েন্ট। তাই আমি আমার ধারণা বদলাব না। দলের ভেতরে আমরা জানি আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে আছি এবং আমাদের লক্ষ্য কী। আমরা টেবিলের উপরের দিকে শেষ করতে চাই। আরও ভাল হলে টপ সিক্সে শেষ করতে চাই। তার থেকেও ভাল হলে প্রথম পাঁচে।”
এদিকে নাম না করে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন ব্যক্তিদের একহাত নিলেন অস্কার। তিনি স্পষ্ট ভাবে বলেন, “সমর্থকদের নিয়ে যে হতাশা বা ক্ষোভের গল্প ছড়ানো হচ্ছে, সেটা আসলে এক ধরনের ‘ন্যারেটিভ’। ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত এমন কিছু মানুষ থাকতে পারে যারা দলের অগ্রগতি বা উন্নতি দেখতে চায় না। শেষ কয়েকটি ম্যাচে তাঁরা আমাকে, কোচদের এবং খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে চিৎকার করেছে। কিন্তু আমরা জানি তাঁরা কারা-খেলোয়াড়, কোচ এবং ম্যানেজমেন্টের সবাই সেটা জানে। যখন পরিস্থিতি ভাল থাকে না, তখনই এই মানুষগুলো সামনে আসে এবং নিজেদের চেহারা দেখায়। এবার ক্লাবের টেকনিক্যাল সিদ্ধান্তগুলো অন্যভাবে নেওয়া হয়েছে। হয়তো অতীতে যারা সিদ্ধান্ত নিতেন, তাঁরা এতে খুশি নন, আর সুযোগ পেলেই তাঁরা সমালোচনা বাড়িয়ে তুলবেন।”
কোচের বক্তব্যের পাল্টা দিলেন ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার। তিনি বলেন, “কোচ পেশাদার। আজ আছে, কাল চলে যেতে পারে। তাই ওর কথায় খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছি না। অস্কারের যদি কোনও অসুবিধা থাকে, বোর্ড মিটিং ডেকে সেটা জানাক। তখন নিশ্চয়ই আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব। অস্কারের উপরে আস্থাশীল আমরা, মনে করি ওর মাধ্যমেই ক্লাবে সাফল্য আসবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 + 10 =