আইএসএলে ঘরের মাঠ কিশোর ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে আবারও পরাজয়ের মুখোমুখি মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। এই নিয়ে আইএসএলে টানা চতুর্থ পরাজয় সাদা-কালো ব্রিগেডের। সুনীল ছেত্রী, রায়ান উইলিয়ামসের বেঙ্গালুরু এফসির কাছে ১-২ গোলের ব্যবধানে পরাজিত মহামেডান স্পোর্টিং। বেঙ্গালুরুর হয়ে গোল করেন রায়ান উইলিয়ামস ও প্রাক্তন মোহনবাগানী আশিক কুরুনিয়ান। দ্বিতীয়ার্ধে মহীতোষ রায়ের গোলে কিছুটা মানরক্ষা হল মহামেডানের।
প্রথমার্ধ জুড়ে বেঙ্গালুরু দাপট দেখিয়ে খেললেও দ্বিতীয়ার্ধে ভালো লড়াই দেয় মেহরাজুদ্দিন ওয়াডুর ছেলেরা। ৫ মিনিটের মধ্যে বক্সের ভিতর চোট পান অমরজিৎ সিং কিয়াম। পর মুহুর্তে কর্ণার পেয়েও সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ৷ ১৭ মিনিটে আক্রমণে বেঙ্গালুরু এফসি। রায়ান উইলিয়ামস ক্রস বাড়িয়ে দেন ফারুখকে সেখান থেকে বেঙ্গালুরুর ফরোয়ার্ড ফানাই গোল করতে ব্যর্থ। সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া বেঙ্গালুরু এফসির। ১৯ মিনিটে সুনীল ছেত্রীর কাছে গোল করার সুযোগ আসে, শট গোললাইন সেভ দিলেন মহামেডান ডিফেন্ডার সাজ্জাদ হোসেন পেয়ারে। ২২ মিনিটে রায়ান উইলিয়ামসের গোলে এগিয়ে যায় বেঙ্গালুরু। সিরোজের কর্ণার সেখান সুনীল বল পেয়ে হেড করেন রায়ান উইলিয়ামসে পায়ে। তিনি বল পেয়ে কোনও ভুল না করে জালে জড়িয়ে দেন। একের পর এক আক্রমণ শানিয়ে যাচ্ছিল বেঙ্গালুরু। ৪২ মিনিটে আশিক কুরুনিয়ানের দূরপাল্লার শটে গোল করে ব্যবধান ২-০ বাড়িয়ে নেয় তারা। দ্বিতীয়ার্ধে সাজ্জাদ হোসেন পেয়ারেকে তুলে হীরা মন্ডল এবং টাংভা রঘুইয়ের জায়গায় সাকাকে নামায় মহামেডান। ৫১ মিনিটে সুযোগ পায় মহামেডান। অ্যাডিসনের ক্রস ক্লিয়ার করে দেন রাহুল ভেকে, ফিরতি বল পেয়ে বক্সের ভিতর থেকে মহীতোষ রায় গোল করেন। ৬৫ মিনিটে স্কোর ২-২ করার সুযোগ এসেছিল মহামেডানের কাছে, তবে আর গোল হয়নি। অ্যাডিসনের ক্রস লালথানকিমার পেয়ে জোরলো শট নেন তিনি, যদিও বারপোস্টে লাগে।
৮০ মিনিটে ইস্রাফিল দেওয়ানকে তুলে ফারদিন আলি মোল্লাকে নামান কোচ মেহরাজুদ্দিন ওয়াডু। ৮৫ মিনিটে বক্সের বাইরে বাঁ দিক থেকে লালথানকিমার শট গোলকিপার গুরপ্রীত সিং সাধু ঝাপিয়ে বাঁচিয়ে দেন। নাহলে বিপদ হতে পারত বেঙ্গালুরুর। সুনীলদের পরের ম্যাচ লিগের শীর্ষস্থানে থাকা মোহনবাগানের বিরুদ্ধে। যা নিয়ে বেশ সতর্ক বেঙ্গালুরু কোচ রেনেডি সিং। অন্যদিকে মহামেডান পরবর্তী ম্যাচে মুখোমুখি হবে ইস্টবেঙ্গলের, যা তাদের জন্য বেশ কঠিন ম্যাচ স্বীকার করে নিলেন কোচ মেহরাজুদ্দিন ওয়াডু।

