জেমির হ্যাটট্রিকে ওড়িশাকে পাঁচ গোল মোহনবাগানের 

মহামেডান ম্যাচের মতো ওড়িশা এফসির বিরুদ্ধেও গোল পার্থক্য বাড়িয়ে নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ ছিল মোহনবাগানের। যুবভারতীতে সেই সুযোগই কাজে লাগাল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। ঘরের মাঠে ওড়িশা এফসিকে ৫-১ গোলে হারাল মোহনবাগান। তবে দ্বিতীয়ার্ধে গোলের একাধিক সুযোগ নষ্ট করলেন দিমি-মনবীররা।
এদিন শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলে মোহনবাগান। ১৪ ‍মিনিটেই চলে আসে ম্যাচের প্রথম গোল। বক্সের বাইরে ব্যাকহিল করে দিমিত্রি পেত্রাতোস বল বাড়িয়ে দেন অধিনায়ক শুভাশিসকে। বাগান থেকে দারুণ ভাসানো ক্রস তোলেন ম্যাকলারেনকে লক্ষ্য করে, জেমি সুন্দর ভাবে গোল করেন। এই গোলের ১০ মিনিট পরই মোহনবাগান ২-০ করে ফেলে। কোলাসোর পাস থেকে জেমি ম্যাচের ও নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন। ৪২ মিনিটে অধিনায়ক শুভাশিস বোসের পাস থেকে দুর্দান্ত শটে গোল করেন আলবার্তো রদ্রিগেজ। পর মূহুর্তেই ওড়িশা এফসির হয়ে এক গোল শোধ করলেন রহিম আলি। বাগান গোলকিপার বিশাল কাইথের গা ছাড়া মনোভাবে ভুগতে হল দলকে। নিজের জায়গা থেকে সরে এসেছিলেন তিনি। প্রথমার্ধের সংযুক্ত সময়ে নিজের হ্যাটট্রিক সম্পন্ন করলেন জেমি ম্যাকলারেন। মাঝমাঠ থেকে থ্রু বল পেয়ে লিস্টন কোলাসো পাস দেন জেমিকে, সেখান থেকে জালে বল জড়িয়ে দেন অস্ট্রেলিয়ান ফরোয়ার্ড।
প্রথমার্ধ শেষ হয় ৪-১ গোলের ব্যবধানে। দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ঝাঁঝ যেন কমিয়ে ফেলল সের্জিও লোবেরার দল। ৬০ মিনিটে মেহতাব সিংয়ের জায়গায় মনবীর সিং, কামিন্সের জায়গায় টম অলড্রেডকে নামান সের্জিও লোবেরা। এরপর অনিরুদ্ধ থাপার জায়গায় দীপক টাংরি, শুভাশিস বোসের জায়গায় অময় রানাওয়াড়ে মাঠে নামেন। একাধিক সুযোগ পেয়েও নষ্ট করে মোহনবাগান। ৭৫ মিনিটে দিমিত্রিকে তুলে সাহালকে নামায়। ৮৬ মিনিটে কার্যত একা বল নিয়ে বক্সে এগোন রহিম আলি। কিন্তু সেখানে পা দিয়ে রহিমকে আটকে দেন বিশাল কাইথ। ৮৮ মিনিটে মনবীর সিংয়ের ভাসানো পাসে বল পেয়ে গোল করেন জেমি ম্যাকলারেন। ৫-১ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে মাঠে ছাড়ল মোহনবাগান। ম্যাচ শেষে মোহনবাগান কোচ সের্জিও লোবেরা বলেন, “অবশ্যই জিতেছি, তবে এখনও অনেক উন্নতির জায়গা রয়েছে। দ্বিতীয়ার্ধে আমরা অনেক বেশি দৌড়েছি, যেটা ভালো ফুটবলের লক্ষণ নয়। গোল খাওয়াটা কোনও বড় কথা নয়। আমার দলের ফুটবলাররা জানে কি করতে হবে, তারা পেশাদার। আমি ওদের খেলায় খুশি।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fourteen + 2 =