“আমরাই জিতবো” ! হুংকার ভারতের সহকারী কোচের

রবিবার কলকাতার ইডেন গার্ডেন্স-এ ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে মরণ-বাঁচন ম্যাচে নামছে ভারত। সেমিফাইনালে উঠতে গেলে এই ম্যাচে জয়ের কোনও বিকল্প নেই। সুপার এইটের সমীকরণ এতটাই জটিল যে একটি হার মানেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের আশঙ্কা। ফলে শুরু থেকেই আগ্রাসী ক্রিকেট খেলতে প্রস্তুত ভারতীয় শিবির। তবে প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ় ক্রিকেট দল হওয়ায় চ্যালেঞ্জ যে কঠিন, তা ভালোভাবেই জানে টিম ম্যানেজমেন্ট। ম্যাচের আগের দিন সাংবাদিক সম্মেলনে ভারতের সহকারী কোচ রায়ান টেন দুশখাতে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আগুনের জবাব আগুন দিয়েই দিতে চায় ভারত। তাঁর মতে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের ব্যাটিং গভীরতা ভয় ধরানোর মতো। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ম্যাচে টপ ও মিডল অর্ডার ব্যর্থ হলেও শেষদিকে জেসন হোল্ডার এবং রোমারিয়ো শেফার্ড ঝোড়ো ব্যাটিং করে দলকে লড়াইয়ের জায়গায় পৌঁছে দিয়েছিলেন। দুশখাতে বলেন, “বিশ্বে খুব কম দলই আছে যেখানে নয় নম্বরে এমন বিধ্বংসী ব্যাটার নামে। কিন্তু এখনকার টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এটাই বাস্তব।” তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, শুধু ওয়েস্ট ইন্ডিজ় নয়, আধুনিক ক্রিকেটে প্রায় সব সফল দলেরই ব্যাটিং গভীরতা রয়েছে। ইংল্যান্ড, নিউ জিল্যান্ড এমনকি ভারতের ক্ষেত্রেও তাই। ভারতের দলে অক্ষর পটেল-এর মতো ক্রিকেটার প্রয়োজনে নীচের দিকে নেমে দলের ভারসাম্য রক্ষা করতে পারেন। দুশখাতের মতে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ় বরাবরই টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটকে তাদের শক্তি হিসেবে দেখে এবং এই মঞ্চেই তারা নিজেদের সেরাটা দিতে চায়। এই পরিস্থিতিতে ভারতের বোলিং ইউনিটের উপরই থাকবে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। দুশখাতে স্পষ্ট বলেন, “টি-টোয়েন্টিতে শুধু রান আটকানোর ধারণা এখন পুরনো। উইকেট নিতে হবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ় ঝুঁকি নিয়ে খেলে, তাই সুযোগ আসবেই। ২০ ওভার ধরেই চাপ বজায় রাখতে হবে—যেমনটা দক্ষিণ আফ্রিকা করেছিল।” এখানে তিনি ইঙ্গিত দেন দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দল-এর সফল কৌশলের দিকে। ব্যাটিং অর্ডার নিয়েও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন দুশখাতে। জ়িম্বাবোয়ে ম্যাচে পাঁচ নম্বরে নেমে সফল হয়েছিলেন তিলক বর্মা। তবে রবিবারও তাঁকে ওই জায়গাতেই নামানো হবে, এমন সিদ্ধান্ত আগে থেকে নেওয়া হয়নি। ওপেনার হিসেবে সঞ্জু স্যামসন ভালো খেলায় টিম ম্যানেজমেন্টকে ভাবাচ্ছে। এদিকে পুরো সেশন জুড়ে ব্যাটারদের আগ্রাসী শট প্র্যাকটিসে জোর দিতে দেখা যায়। বিশেষ করে অভিষেক শর্মা ও তিলক বর্মা ।  ডেথ ওভারের ব্যাটিং ও বড় শট খেলার অনুশীলন করেন হার্দিক পান্ডিয়া ও শিবম দুবে। বুমরাহ , অর্শদীপ , বরুণ লেংথ ও ভ্যারিয়েশনে কাজ করেন, যাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের পাওয়ার হিটারদের সামলানো যায়। ফিল্ডিং অনুশীলনেও ছিল তৎপরতা। সব মিলিয়ে আত্মবিশ্বাসী ও ইতিবাচক মেজাজেই অনুশীলন সারল ভারত। সব মিলিয়ে, ইডেনের আলোয় রবিবার যে এক আগ্রাসী ও রোমাঞ্চকর লড়াই অপেক্ষা করছে, তা বলাই বাহুল্য। ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ় দ্বৈরথ মানেই উত্তেজনা, আর এবার তার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সেমিফাইনালের টিকিট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

sixteen − 10 =