আইএসএলের প্রথম দুই ম্যাচে জয় পেয়ে হ্যাটট্রিকের দোরগোড়ায় ছিল ইস্টবেঙ্গল। তবে জামশেদপুরকে হারাতে পারল না লাল-হলুদ ব্রিগেড। শুক্রবারের যুবভারতীতে এগিয়ে থেকেও ১-২ গোলে পরাজিত ইস্টবেঙ্গল। প্রাক্তনী মাদিহ তালালের পাস থেকেই স্বপ্নভঙ্গ অস্কার ব্রুঁজোর দলের। একাধিক কার্ড ও সল ক্রেস্পোর দলে না থাকাই বড় কারণ হয়ে দাঁড়াল হারের। প্রায় ২৩ হাজার দর্শক ফিরলেন হতাশা নিয়ে।
চোটের জন্য এদিন দলে ছিলেন না সল ক্রেস্পো। আবারও আশঙ্কা তৈরি হল লাল-হলুদ অধিনায়কের চোট নিয়ে। ম্যাচের শুরুতেই ২ মিনিটে এডমুন্ড লালরিন্ডিকাকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন জামশেদপুরের সানান। ৬ মিনিটে প্রথম আক্রমণ ইস্টবেঙ্গলের। ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার মিগুয়েল বিপক্ষের দু’জন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বল নিয়ে এগিয়ে যান। বক্সের ভিতরে থাকা রশিদের উদ্দেশ্যে বল বাড়ালেও, জামশেদপুর গোলকিপার অ্যালবিনো সতর্ক ছিলেন। পরক্ষণেই অফসাইডে জামশেদপুর এফসির গোল বাতিল হল। ১১ মিনিটে জিকশন সিংয়ের দূরপাল্লার শট পোস্টের উপর দিয়ে মাঠের বাইরে চলে যায়। ১৩ মিনিটে আবারও রেফারি অফসাইডে জামশেদপুরের গোল বাতিল করেন। ১৪ মিনিটে বিপদ ঘটতে পারত ইস্টবেঙ্গলের জন্য। মেসি বাউলির থেকে বল পেয়ে ডান দিক থেকে ভিন্সি ব্যারেটোর দৌড় শুরু করেন। তিনি জয় গুপ্তাকে কাটিয়ে ইস্টবেঙ্গল গোল লক্ষ্য করে শট নিলেও গোলকিপার গিল বল বাঁচিয়ে দেন। ১৮ মিনিটে মাদিহ তালালের ফ্রি-কিক আঙুলের দগায় লাগিয়ে বাঁচিয়ে দেন গিল। প্রথমার্ধেই একাধিক সুযোগ পেয়ে কাজে লাগাতে ব্যর্থ ইস্টবেঙ্গল। ৩৫ মিনিটের আগেই নুঙ্গাকে তুলে মহম্মদ রাকিপকে নামিয়ে দেন অস্কার ব্রুজ়ো। ৪০ মিনিটে এডমুন্ড লালরিনডিকার গোলে এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। বাঁদিক থেকে বিপিনের ক্রস পেয়ে বিপক্ষ ডিফেন্ডার প্রতীককে কাটিয়ে জালে বল জড়িয়ে দেন এডমুন্ড। ৪৪ মিনিটে সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন ইউসেফ এজ্জেজ্জারি। কর্নার থেকে সরাসরি বল পান তিনি। ফাঁকা পোস্টে হেড করতে ব্যর্থ ইউসেফ। প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-০ গোলে। দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে দুর্দান্ত কামব্যাক করেন মাদিহ তালালরা। ৬১ মিনিটে নিকোলার কর্নার থেকে বল পেয়ে হেডে গোল করে জামশেদপুরকে সমতায় ফেরালেন স্টিফেন এজ়ে। ৮৮ মিনিটে জামশেদপুরের হয়ে জয়সূচক গোলটি করলেন রেই তাচিকাওয়া। মাদিহ তালালের পাস থেকে দুর্দান্ত শটে গোল করে দলকে জেতালেন তিনি।

