বিশ্বকাপে ভারতের কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার যন্ত্রণা এখনও তাজা ছিল অস্ট্রেলিয়ার মহিলা দলের মনে। সেই সঙ্গে নিজেদের দেশের মাটিতে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভারতের কাছে হারও আত্মসম্মানে আঘাত দিয়েছিল। কিন্তু ওয়ানডে সিরিজে নামার সঙ্গে সঙ্গেই একেবারে বদলে গেল অজিদের মেজাজ। প্রথম ম্যাচে ৬ উইকেটে জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও একই দাপট দেখিয়ে ভারতকে হারাল অস্ট্রেলিয়া মহিলা জাতীয় ক্রিকেট দল। টানা দুই ম্যাচ জিতে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ নিজেদের পকেটে পুরে নেয় তারা, কার্যত ‘মধুর প্রতিশোধ’ সম্পূর্ণ করে।
দ্বিতীয় ম্যাচের আগে ভারতীয় শিবিরে উদ্বেগের কারণ ছিলেন অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর। আগের ম্যাচে ব্যাট করার সময় বাঁ হাঁটুতে চোট পেয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে মাঠে নামতে পারেননি তিনি। ফলে তাঁর খেলা নিয়ে সংশয় ছিল। তবে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শুক্রবার মাঠে নামেন হরমনপ্রীত। টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ভারত অধিনায়ক, লক্ষ্য ছিল বড় রান তুলে অস্ট্রেলিয়াকে চাপে রাখা।
ইনিংসের শুরুটা বেশ আশাব্যঞ্জকই হয়েছিল ভারত মহিলা জাতীয় ক্রিকেট দল-এর জন্য। দুই ওপেনার প্রতীকা রাওয়াল ও স্মৃতি মন্ধানা সাবলীলভাবে রান তুলতে থাকেন। স্মৃতি ৩১ রানে আউট হলেও প্রতীকা ধীরে সুস্থে ইনিংস গড়েন। তবে তাঁর ব্যাটিংয়ের গতি ছিল মন্থর—৫২ রান করতে খেলেন ৮১ বল, স্ট্রাইক রেট মাত্র ৬৪। বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি করা জেমাইমা রডরিগেজও এ দিন ব্যর্থ, তাঁর সংগ্রহ মাত্র ১১ রান।
মিডল অর্ডারে দায়িত্ব নেন হরমনপ্রীত কৌর। আগের ম্যাচের মতোই আত্মবিশ্বাসী দেখালেও হাফসেঞ্চুরির পর ইনিংসকে বড় করতে পারেননি তিনি। ৭০ বলে ৫৪ রান করে আউট হন ভারত অধিনায়ক। শেষের দিকে রিচা ঘোষ, কেশভি গৌতম ও ক্রান্তি গৌড়ের কার্যকর ব্যাটিংয়ে ৫০ ওভারে ভারতের স্কোর দাঁড়ায় ২৫১ রান—লড়াই করার মতো হলেও নিরাপদ নয়।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় অস্ট্রেলিয়া। অধিনায়ক অ্যালিসা হিলি মাত্র ৬ রানে ফিরে গেলে কিছুটা আশার আলো দেখেছিল ভারত। কিন্তু এরপরই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি অজিদের হাতে চলে যায়। তরুণ ব্যাটার ফোবি লিচফিল্ড (৮০) এবং জর্জিয়া ভল (১০১) গড়ে তোলেন ১১৯ রানের দুর্দান্ত জুটি। এই জুটিই কার্যত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। ভারতীয় বোলাররা আর ম্যাচে ফিরতে পারেননি।
মাত্র ৩৬.১ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া। ভারতের হয়ে কেশভি গৌতম ও দীপ্তি শর্মা দু’টি করে উইকেট নিলেও তা যথেষ্ট ছিল না। এক ম্যাচ আগেই সিরিজ জিতে নেওয়ায় রবিবারের তৃতীয় ওয়ানডে এখন নিয়মরক্ষার। তবে আত্মবিশ্বাসের নিরিখে এই সিরিজ যে অস্ট্রেলিয়াকে বড়সড় বার্তা দিল, তা বলাই বাহুল্য।

