দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ মানেই প্রত্যাশার পাহাড়। গৌতম গম্ভীর–এর নেতৃত্বে সেই প্রত্যাশার ভার কাঁধে নিয়েই ফেভারিট হিসেবে অভিযান শুরু করেছিল টিম ইন্ডিয়া। কিন্তু সুপার এইটের প্রথম ম্যাচেই ছন্দপতন। সূর্যকুমার যাদবদের দল দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে সেমিফাইনালের অঙ্ক জটিল করে তোলে। তবু ক্রিকেট যে অনিশ্চয়তার খেলা, তা আবারও প্রমাণিত। ভাগ্যদেবীর সহায়তায় কার্যত দুর্বল প্রতিপক্ষ জিম্বাবোয়েকে পেয়ে লক্ষ্মীবারের চিপকে অগ্নিপরীক্ষায় দারুণভাবেই উতরে গেল ভারত—৭২ রানে জয়।
তবে এখানেই গল্প শেষ নয়। বলা ভালো, পিকচারের ক্লাইম্যাক্সই বাকি। আগামী রোববার ইডেন গার্ডেন্স–এ যে ফল হবে, সেটাই বলে দেবে—ভারত ইন না আউট। এই ম্যাচের আগে ভারতের কাজটা অনেকটাই সহজ করে দিয়েছিল প্রোটিয়ারা, ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে। বাকি কাজটা মাঠে নামা ভারতীয় তারকারাই করে দিলেন।
সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর—অভিষেক শর্মার ফর্মে ফেরা। অসুস্থতা কাটিয়ে আবার চেনা ছন্দে অভিষেক শর্মা। চারটি করে বাউন্ডারি ও ছক্কায় সাজানো দুরন্ত হাফসেঞ্চুরি—৫৫ রান—যেন ঘোষণা করে দিল, ক্লাস ইজ পার্মানেন্ট। নিন্দুকরা বলতেই পারেন, প্রতিপক্ষ জিম্বাবোয়ে বলেই এমন ঝলক। কিন্তু শূন্যের হ্যাটট্রিকের পর যে আত্মবিশ্বাসে পুল ও সুইপে বল বাউন্ডারির বাইরে উড়ল, তা পরের ম্যাচের আগে তাঁকে অক্সিজেন দেবে—এতে সন্দেহ নেই।
গম্ভীরের কপালের ভাঁজ কমালেন তিলক বর্মাও। মন্থর ব্যাটিংয়ের খোলস ঝেড়ে ১৬ বলে ৪৪ রানে অপরাজিত থেকে ম্যাচের রং বদলে দিলেন। সেই সঙ্গে অর্ধশতরান (অপরাজিত) করে হার্দিক পাণ্ড্য বুঝিয়ে দিলেন—তাঁকে ভুললে চলবে না। গ্যালারিতে বসে তাঁর চোখধাঁধানো ইনিংস উপভোগ করলেন প্রিয়জনেরা।
এদিকে ভারতের কাছে হেরে এবারের মতো বিশ্বকাপ অভিযান শেষ জিম্বাবোয়ের। তবু এই সফর তাদের জন্য স্মরণীয়। গ্রুপ পর্বে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো থেকে সুপার এইটে ভারতের বিরুদ্ধে জোর টক্কর—সব মিলিয়ে সাহসী গল্পই লিখেছে তারা। শুধু তাই নয়, পরের বিশ্বকাপে সরাসরি মূল পর্বে ঢোকার সুযোগও পেয়ে গেল। জয়ের মুখ না দেখলেও কঠিন সময়ে ব্রায়ান বেনেট–এর অনবদ্য ইনিংস চেন্নাই মনে রাখবেই।
বোলিংয়ে উইকেট না পেলেও জসপ্রীত বুমরাহ ও হার্দিক তিন ওভারে ২১ রান দিয়ে চাপ তৈরি করেন। তবে ব্যাটিং লাইন-আপে ধস নামান অর্শদীপ সিং—চার ওভারে ২৪ রানে তিন উইকেট। সব মিলিয়ে আত্মবিশ্বাসে টাটকা ভারত এখন কলকাতার দিকে। ক্লাইম্যাক্সের মঞ্চ প্রস্তুত।

