রান রেট বাড়ানোর চাপ এমনিতেই বড়। তার উপর ব্যাটারদের অর্ধেক ফর্মে না থাকায় ভারতীয় শিবিরে উদ্বেগ ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে। প্রাক্-বিশ্বকাপ পর্বে যাঁকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি চর্চা হয়েছিল, সেই অভিষেক শর্মা এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত ব্যর্থ। চার ম্যাচে তাঁর রান—০, ০, ০ এবং ১৫। ওপেনিংয়ে এই ব্যর্থতা সরাসরি প্রভাব ফেলছে দলের ছন্দে। ফলে সুপার এইটের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে টিম ম্যানেজমেন্টের মাথাব্যথা বেড়েছে বহুগুণ।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে স্পিনারদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ব্যাটারদের দুর্দশা। প্রতিপক্ষরা কার্যত বুঝে গিয়েছে, শুরুতেই অফস্পিনার আনা হলে ভারতীয় ব্যাটিং চাপে পড়ছে। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়ার এই ছক বেশ কয়েকটি দলই কাজে লাগাচ্ছে। তাই চিপকে আর কোনওরকম ঝুঁকি নিতে চাইছে না ভারত। পাটা উইকেটের ফর্মুলাতেই ফিরতে চাইছে টিম ম্যানেজমেন্ট।
চেন্নাইয়ে নেট সেশনেই তার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে। দেখা গেল, ঈশান কিষান, তিলক বর্মা এবং অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব দীর্ঘক্ষণ ধরে ব্যাটিং অনুশীলন করছেন। এক নেট থেকে আরেক নেটে ঘুরে ঘুরে ব্যাটিং করলেন তাঁরা। প্রায় পুরো সময়টাই স্পিনারদের দিয়ে বোলিং করানো হয়। সূর্য একাধিক দফায় ব্যাটিং করলেন। সবার শেষে আবার নেটে ঢুকে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ব্যাটিং চালিয়ে যান। নেটের ঠিক পিছনে দাঁড়িয়ে ছিলেন ভারতীয় কোচ গৌতম গম্ভীর। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত টানা দাঁড়িয়ে থেকে প্রত্যেকের ব্যাটিং দেখেন এবং মাঝেমধ্যেই টুকটাক পরামর্শ দেন।
সূত্রের খবর, দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচের পর পুরো দলকে তুলোধোনা করেন গম্ভীর। ড্রেসিংরুম থেকে শুরু করে হোটেল পর্যন্ত সেই রোষ চলেছে। শোনা যাচ্ছে, জশপ্রীত বুমরাহ ও বরুণ চক্রবর্তী ছাড়া প্রায় সবাই কোচের ভর্ৎসনার মুখে পড়েন। এমনকী অধিনায়ক সূর্যকুমারও ছাড় পাননি। এই কঠোর মনোভাবেই দলের ভিতরের শৃঙ্খলা ফেরাতে চাইছেন গম্ভীর।
তবে কোচের স্ট্র্যাটেজিও প্রশ্নের মুখে। আহমেদাবাদে হঠাৎ করে সহ-অধিনায়ক অক্ষর প্যাটেল-এর বদলে ওয়াশিংটন সুন্দর-কে খেলানো নিয়ে প্রবল সমালোচনা হয়েছে। টিমের অন্দর থেকে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছিল, পাওয়ার প্লে’তে কুইন্টন ডি’কক-রিকেলটনদের আটকানোর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু ক্রিকেটমহলের পাল্টা প্রশ্ন, যখন দলে বুমরাহ ও অর্শদীপ সিং-এর মতো সেরা পেসার রয়েছে, তখন কেন তাঁদের উপর পুরোপুরি ভরসা রাখা হল না?
চিপকে অক্ষরের ফেরা প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছে। আসলে গম্ভীর নিজেও বুঝে গিয়েছেন, এই মুহূর্তে আর সামান্য এদিক-ওদিক হলেই বিশ্বকাপের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যেতে পারে। তাই ঝুঁকির বদলে নিশ্চিত পথে হাঁটতেই মরিয়া ভারতীয় শিবির।

