ইডেনে নিয়মরক্ষার ম্যাচে ইতালিকে উড়িয়ে সুপার এইটে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়

২০২৬ সালের টি২০ বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘সি’-এর শেষ ম্যাচে কলকাতার ঐতিহাসিক ইডেন গার্ডেন্স-এ মুখোমুখি হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ় ও ইতালি। ম্যাচটি কার্যত নিয়মরক্ষার হলেও উত্তেজনার অভাব ছিল না। টানা তিনটি জয় তুলে নিয়ে আগেই সুপার এইটে জায়গা নিশ্চিত করেছিল ক্যারিবিয়ানরা। তা সত্ত্বেও তারা পূর্ণ শক্তির দল নিয়েই মাঠে নামে, যা তাদের আত্মবিশ্বাস এবং ধারাবাহিকতা বজায় রাখার মানসিকতারই ইঙ্গিত দেয়।
প্রথমবার টি২০ বিশ্বকাপে অংশ নিয়েই ইতালি নজর কেড়েছে। নেপালের বিরুদ্ধে জয় এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লড়াকু পারফরম্যান্স তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছিল। টসে জিতে ইতালি ওয়েস্ট ইন্ডিজ়কে আগে ব্যাট করতে পাঠায়। কিন্তু শুরুটা ভালো হয়নি ক্যারিবিয়ানদের। দ্বিতীয় ওভারেই ৪ রান করে ফিরে যান ব্র্যান্ডন কিং। পাওয়ারপ্লের মধ্যে দল ৩১/২ হয়ে যায়। শিমরন হেটমায়ারও মাত্র ১ রান করে আউট হন।
এই কঠিন পরিস্থিতিতে দলের হাল ধরেন অধিনায়ক শাই হোপ। দায়িত্বশীল এবং আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের মিশেলে তিনি ৪৬ বলে ৭৫ রানের চমৎকার ইনিংস খেলেন। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৬টি চার ও ৪টি ছক্কা। ইনিংসের মাঝের দিকে রোস্টন চেজ়, শেরফেন রাদারফোর্ড এবং ম্যাথিউ ফোর্ড দ্রুতগতির ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। তাদের অবদানে নির্ধারিত ২০ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ় ৬ উইকেটে ১৬৫ রান তোলে, যা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক স্কোর বলেই মনে হচ্ছিল।
১৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইতালির শুরুটাও ভালো হয়নি। পাওয়ারপ্লের মধ্যেই দুই ওপেনার জাস্টিন মোসকা ও অ্যান্থনি মোসকা ফিরে যান। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকায় চাপে পড়ে ইতালি। ১৪ ওভার শেষে তাদের স্কোর দাঁড়ায় ৯৪/৫। জেজে স্মাটস কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। শেষ ছয় ওভারে প্রয়োজন ছিল ৭২ রান, যা ক্রমেই কঠিন হয়ে ওঠে।
ম্যাচের এক পর্যায়ে উত্তেজনা চরমে ওঠে। ইতালির ইনিংসের ৫.৫ ওভারে ম্যাথিউ ফোর্ডের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে সৈয়দ নকভি ক্যাচ দেন। উইকেট পাওয়ার পর ফোর্ডের আচরণ মাঠে বিতর্ক তৈরি করে এবং কিছুটা উত্তাপ ছড়ায়। যদিও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে দ্রুতই।
বেন মানেন্তি শেষদিকে লড়াই চালালেও দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নিতে পারেননি। ১৮ ওভারে ১২৩ রানে অলআউট হয়ে যায় ইতালি। ফলে ম্যাচটি ৪২ রানে জিতে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ়।
এই জয়ের ফলে আত্মবিশ্বাস নিয়ে সুপার এইটে পা রাখল ক্যারিবিয়ানরা। সুপার এইটের গ্রুপ ১-এ তাদের সঙ্গে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবোয়ে ও ভারত। ভারত ইতিমধ্যেই ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্স করছে, ফলে সেমিফাইনালে ওঠার দৌড় জমে উঠবে বলেই মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ় (২০১২ ও ২০১৬) আবারও উপমহাদেশে শিরোপা জয়ের ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

7 + eleven =