শনিবার সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নামতে চলেছে ভারত। ম্যাচটি হবে নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম–এ, যে মাঠ প্রোটিয়াদের কাছে বেশ পরিচিত। সেই পরিচিতির সুবিধাকেই বড় অস্ত্র হিসেবে দেখছেন দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার করবিন বশ। তাঁর মতে, অহমদাবাদের পরিস্থিতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকায় প্রোটিয়ারা কিছুটা এগিয়ে থেকেই মাঠে নামবে।
বশ জানিয়েছেন, এই মাঠে একাধিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা তাঁদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। তিনি বলেন, অহমদাবাদে বেশ কয়েকটি ম্যাচ খেলতে পেরে তাঁরা নিজেদের ভাগ্যবান মনে করছেন। উইকেটের চরিত্র, বাউন্স, আবহাওয়া—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁদের যথেষ্ট ধারণা তৈরি হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই ভারতের বিরুদ্ধে কৌশল সাজানো হবে। বিশেষ করে ভারতের ব্যাটারদের জন্য আলাদা করে পরিকল্পনা করা হবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
তবে ভারতীয় দলে নির্দিষ্ট কোনও ক্রিকেটারকে আলাদা করে চিহ্নিত করতে চাননি বশ। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব–এর নেতৃত্বে ভারতীয় ব্যাটিং লাইন-আপ অত্যন্ত আক্রমণাত্মক—এ কথা স্বীকার করেছেন তিনি। তাঁর মতে, ভারতের প্রত্যেক ব্যাটারেরই ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা রয়েছে। তাই কাউকে আলাদা করে টার্গেট না করে গোটা ব্যাটিং ইউনিটকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা করা হবে। বশ স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভারতের বিরুদ্ধে সাফল্য পেতে হলে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে হবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে।
দক্ষিণ আফ্রিকার পেস আক্রমণ এই মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী বলে মনে করা হচ্ছে। কাগিসো রাবাডা, লুনগি এনগিডি এবং মার্কো জানসেন–এর মতো বিশ্বমানের বোলারদের সঙ্গে চতুর্থ পেসার হিসেবে খেলছেন বশ। এই তারকাদের পাশে খেলতে পারাকে তিনি বড় সম্মান বলে মনে করেন। একই সঙ্গে এটাকে দায়িত্বও বলছেন। তাঁর কথায়, এমন মানের বোলিং বিভাগে থাকলে ব্যক্তিগত চাপ অনেকটাই কমে যায়, কারণ প্রত্যেকেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন।
আমিরশাহির বিরুদ্ধে তিন উইকেট নিয়ে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন বশ। সেই পারফরম্যান্স তাঁর আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে। তিনি মনে করেন, অভিজ্ঞ পেসারদের কাছ থেকে শেখার সুযোগ পাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। তাঁদের সঙ্গে আলোচনা, পরিকল্পনা এবং ম্যাচ পরিস্থিতি বোঝার মাধ্যমে নিজের বোলিংয়েও উন্নতি এসেছে। এখন তিনি আরও স্বাধীনভাবে বল করতে পারছেন, যা তাঁর পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বশের বক্তব্যে স্পষ্ট, দক্ষিণ আফ্রিকা কোনও একক তারকার উপর নির্ভর না করে দলগত শক্তির উপরই ভরসা করছে। বোলিং ইউনিট হিসেবে একসঙ্গে কাজ করাই তাঁদের মূল মন্ত্র। ভারতের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংকে চ্যালেঞ্জ জানাতে তাঁরা প্রস্তুত। মাঠের অভিজ্ঞতা ও দলগত সমন্বয়—এই দুই অস্ত্র নিয়েই শনিবারের মহারণে নামবে প্রোটিয়ারা।

