টি-২০ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ভারত বনাম নেদারল্যান্ডস ম্যাচটি ছিল নিয়মরক্ষার। আগেই সুপার এইটে জায়গা নিশ্চিত করে ফেলেছিল ভারত। তবুও ম্যাচটি সহজ হবে—এমনটা ভাবার সুযোগ দেয়নি নেদারল্যান্ডস। শেষ পর্যন্ত ১৭ রানে জিতলেও প্রত্যাশামতো একতরফা আধিপত্য দেখাতে পারেনি সূর্যকুমার যাদবের দল।
নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। কিন্তু শুরুটা একেবারেই ভালো হয়নি ভারতের। অভিষেক শর্মা শূন্য রানে ফিরে যান। ঈশান কিষানও এদিন ব্যর্থ। দুই ওপেনারকেই ফিরিয়ে দেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ডাচ বোলার আরিয়ান দত্ত। তিলক বর্মা ও সূর্যকুমারের ইনিংসও বিশেষ ছাপ ফেলতে পারেনি। ১৪তম ওভারে ১১০ রানে চার উইকেট পড়ে গিয়ে চাপে পড়ে ভারত।
সেই কঠিন পরিস্থিতিতে দলের হাল ধরেন শিবম দুবে। মাত্র ৩১ বলে ৬৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে ভারতীয় ব্যাটিংয়ে প্রাণ ফেরান তিনি। হার্দিক পাণ্ডিয়াও ৩০ রানের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তবু ‘দুর্বল’ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ২০০ রানের গণ্ডি পেরোতে পারেনি ভারত। নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৯৩ রান তোলে মেন ইন ব্লু। জয়ের জন্য ডাচদের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৯৪।
রান তাড়া করতে নেমে মাইকেল লেভিট ও ম্যাক্স ও’ডিড ধীরে শুরু করেন। বড় জুটি গড়তে পারেননি কেউই। মাঝের ওভারে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন বরুণ চক্রবর্তী। তিন ওভারে মাত্র ১৪ রান দিয়ে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন তিনি। তার ঘূর্ণিতেই চাপে পড়ে যায় নেদারল্যান্ডস। ওয়াশিংটন সুন্দর প্রভাব ফেলতে না পারলেও শেষ পর্যন্ত ভারতীয় বোলাররাই ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখেন। তবে ভারতের ফিল্ডিং ছিল গড়পড়তা, কয়েকটি সুযোগ নষ্ট হয়।
শেষ ওভার পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেও বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে সম্মানজনক লড়াই উপহার দেয় স্কট এডওয়ার্ডসের দল। নির্ধারিত ওভার শেষে তারা থামে ১৭৬ রানে। ফলে ১৭ রানের জয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করে অপরাজিত ভারত। ২০২৪ টি-২০ বিশ্বকাপে এখনও হারেনি মেন ইন ব্লু, আর সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই তারা পা রাখছে সুপার এইটে।

