ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট মানেই আবেগ, রাজনীতি ও কূটনীতির জটিল সমীকরণ। সেই সমীকরণে এ বার নীরবে কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশকে। ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে খেলাতে রাজি করানোর পাশাপাশি, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের শীতলতা কাটাতেও উদ্যোগী ঢাকা—এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম। তাঁর মন্তব্যে স্পষ্ট, ক্রিকেটকে হাতিয়ার করে আঞ্চলিক কূটনীতিতে বরফ গলানোর চেষ্টা চলছে।
নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ টি২০ বিশ্বকাপে ভারতে খেলতে আসতে রাজি হয়নি। কিন্তু তার মধ্যেই পাকিস্তান যেন ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলে, সে বিষয়ে মধ্যস্থতার ভূমিকা নেয় বিসিবি। আইসিসি-ও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বিশ্বকাপে না খেললেও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। এই অবস্থান আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্রশাসনের রাজনৈতিক সংবেদনশীলতাকেই তুলে ধরে।
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম ‘প্রথম আলো’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, আইসিসির শীর্ষ পাঁচ সদস্যের মধ্যে পাঁচটিই এশিয়ার দেশ—ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান। তাঁর কথায়, “ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে আইসিসি চায়, এশিয়ার এই পাঁচ দেশের প্রতিনিধিরা একসঙ্গে ম্যাচ দেখুক এবং একে অপরের সঙ্গে কথা বলুক। এটা বরফ গলারই একটা প্রক্রিয়া।” অর্থাৎ, ক্রিকেট মাঠকে কেবল প্রতিযোগিতার জায়গা নয়, আলোচনার মঞ্চ হিসেবেও ব্যবহার করতে চাইছে আইসিসি।
এই উদ্যোগকে আরও শক্ত ভিত দিতে লাহৌরে হওয়া বৈঠকের আলোচনা ও সিদ্ধান্তগুলিকে লিখিত রূপ দিতে চলেছে বিসিবি। আমিনুল জানিয়েছেন, একটি মউ (মেমোরেন্ডাম অফ আন্ডারস্ট্যান্ডিং) স্বাক্ষরের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এই আলোচনাকে অস্বীকার করতে না পারে। ঢাকায় এসিসি-র বার্ষিক সাধারণ সভায়ও একই ধরনের নথি তৈরি হয়েছিল বলে জানান তিনি। আইসিসি-র সঙ্গেও প্রায় চূড়ান্ত হয়ে যাওয়া এমন একটি চুক্তি আঞ্চলিক ক্রিকেট রাজনীতিতে নতুন দিশা দেখাতে পারে।
প্রশ্ন উঠছে, এই ক্রিকেট-কূটনীতি কি শেষ পর্যন্ত দিল্লি-ঢাকার টানাপোড়েন কমাতে পারবে? অতীতে বহুবার দেখা গিয়েছে, রাজনৈতিক সম্পর্কের ওঠানামার প্রভাব সরাসরি পড়েছে ক্রিকেটের উপর। তবে এ বার পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা। আইসিসি, এসিসি এবং এশিয়ার দেশগুলির সম্মিলিত উদ্যোগ ইঙ্গিত দিচ্ছে, ক্রিকেটকে সামনে রেখে পারস্পরিক কথাবার্তার পথ খুলতে চাইছে সবাই।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন একটাই—রাজনৈতিক মতভেদ কি ক্রিকেটের মাধুর্যে নরম হবে? উত্তর সময়ই দেবে। তবে এটুকু নিশ্চিত, বাংলাদেশ এ বার কেবল মাঠের লড়াইয়ে নয়, মাঠের বাইরের কূটনৈতিক খেলাতেও গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলতে নেমেছে।

