১ রানের জন্য ত্রিশতরান হাতছাড়া সুদীপের ! তবু সেমির দোরগোড়ায় বাংলা

নাটকীয়তার সব রসদ মজুত রেখেও কার্যত একতরফা ছবির দিকেই এগিয়ে গেল কল্যাণীর কোয়ার্টার ফাইনাল। তৃতীয় দিনের শেষে অন্ধ্রপ্রদেশের বিরুদ্ধে ১২৩ রানের লিড নিয়ে চতুর্থ দিন শুরু করেছিল বাংলা। দিনের শেষে সেই ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ৩৩৪ রানে। অর্থাৎ, এক দিনেই আরও ২১১ রান যোগ করে চালকের আসনে পুরোপুরি বসে যায় বঙ্গ ব্রিগেড। এই বিশাল লিডের নেপথ্যে মূলত দু’জন—সুদীপ ঘরামি ও শাকির হাবিব গান্ধী। দু’জনের ব্যাট থেকেই এল ইনিংসের সিংহভাগ রান, যা কার্যত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
তৃতীয় দিনের শেষে বাংলার স্কোর ছিল ৬ উইকেটে ৪১৮। সুদীপ তখন ২১৬ রানে এবং শাকির ৪৫ রানে অপরাজিত। চতুর্থ দিনের সকালে কল্যাণীর মাঠে নামার পরও সেই দাপট বজায় রাখেন দু’জন। দেখে মনে হচ্ছিল, গোটা দিন ধরেই তাঁরা উইকেটে রাজত্ব করবেন। অন্ধ্রপ্রদেশের বোলারদের কোনও অস্ত্রই কার্যকর হচ্ছিল না। ধৈর্য আর আক্রমণের নিখুঁত মিশেলে ধীরে ধীরে বড় রানের দিকে এগোচ্ছিল বাংলা।
তবে ৯৫ রানের মাথায় শাকির আউট হতেই ভাঙে ২২১ রানের সেই গুরুত্বপূর্ণ জুটি। মাত্র পাঁচ রানের জন্য শতরান হাতছাড়া হয় তাঁর। অন্য প্রান্তে সুদীপ এগোচ্ছিলেন অনন্য এক মাইলফলকের দিকে। ত্রিশতরান তখন হাতছানি দিচ্ছে। কিন্তু ২৯৯ রানের মাথায় রশিদের বল সুদীপের স্টাম্পে আঘাত হানতেই স্বপ্নভঙ্গ। সময়ে ব্যাট নামাতে না পারায় ২৯৯ রানে থামতে হয় তাঁকে। ইনিংসের গভীরতা, নিয়ন্ত্রণ আর দায়িত্ববোধ বিচার করলে ত্রিশতরান তাঁর প্রাপ্যই ছিল, কিন্তু ক্রিকেটদেবতা সে দিন সহায় হলেন না।
নয় উইকেট পড়ে যাওয়ার পর যা হল, তা যেন বাড়তি বোনাস। মহম্মদ শামি ব্যাট হাতে নেমেই অন্ধ্রপ্রদেশের বোলারদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। মাত্র ৩০ বলে অর্ধশতরান করে ম্যাচে নতুন মাত্রা যোগ করেন তিনি। সাতটি চার ও তিনটি ছক্কায় সাজানো ৫৩ রানের ইনিংস খেলেন ৩৩ বলে। শেষ পর্যন্ত ৬২৯ রানে থামে বাংলার প্রথম ইনিংস। প্রথম ইনিংসে ৩৩৪ রানের বিশাল লিড পায় তারা।
রঞ্জি ট্রফির কোয়ার্টার ফাইনালের এখনও এক দিনের খেলা বাকি থাকলেও পরিস্থিতি বলছে অন্য কথা। ৩৩৪ রান পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে লিড নেওয়া অন্ধ্রপ্রদেশের পক্ষে কার্যত অসম্ভব। তার ওপর দ্বিতীয় ইনিংসেও একের পর এক উইকেট হারাচ্ছে তারা। ইনিংস ব্যবধানে জয়ের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সব মিলিয়ে বলা যায়, চলতি রঞ্জির সেমিফাইনালে প্রায় পৌঁছেই গিয়েছে বাংলা।
অন্য দিকে, ইতিমধ্যেই সেমিফাইনালের টিকিট কেটে ফেলেছে কর্নাটক। মুম্বইয়ের দেওয়া ৩২৫ রানের লক্ষ্য তারা তুলে নেয় ছয় উইকেট হারিয়ে। লোকেশ রাহুলের অনবদ্য ১৩০ এবং আর স্মরণের অপরাজিত ৮৩ রানের ওপর ভর করেই মুম্বইকে হারায় কর্নাটক। সেমিফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ উত্তরাখণ্ড—ইতিহাসে প্রথম বার রঞ্জি ট্রফির শেষ চারে পৌঁছনো এক সাহসী দল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × 4 =